হঠাৎ করে ধুপ করে একটা শব্দ হল।দুইটা মেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস.এম হলের দিকে যেতে মোড়টায়। উনাকে ‘ধরো’ বলে দৌড়ে আসলেন দাঁড়িওয়ালা এক পুলিশ আংকেল। কয়েকজনের ছুটোছুটি। হাতে ফ্যানটা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। থমকে দাঁড়ালাম।
দেখি,রিক্সা চালানো অবস্থায় রিক্সা থেকে মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন রিক্সাওয়ালা ভাইয়াটা। কয়েকজন মিলে উনাকে রাস্তা থেকে তুলে ফুটপাতে নিয়ে আসলাম। কয়েকজন রিক্সাওয়ালাও এগিয়ে আসল। এক আন্টির কাছ থেকে পানির বোতল নিয়ে উনার মাথায় ঢাললাম। অল্প পানি হওয়ায় তা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। রিক্সাওয়ালা ভাইয়া তখনো অজ্ঞান।

উনাকে ধরো বলে এগিয়ে আসা দাঁড়িওয়ালা পুলিশ আংকেলটি নেই। আরেকজন পুলিশ আংকেল আসলেন। দেখি দূর থেকে দাঁড়িওয়ালা পুলিশ আংকেলটি একটা বড় মগভর্তি পানি নিয়ে আসতেছেন। দেখে কি যে ভাল লাগলো। পানি এনেই আংকেলটি রিক্সাওয়ালা ভাইয়াটার মাথায় ঢালতে লাগলেন। দুই হাত দিয়ে রিক্সাওয়ালা ভাইয়াটাকে আমরা কয়েকজন ব্যালেন্স করে রাখলাম আর আংকেল পানি ঢালতে লাগলো।
মগের পানি শেষ হবার পর এবার পুলিশ আংকেলটার কাছ থেকে মগটা নিয়ে আরেকজন রিক্সাওয়ালা ভাই পানি আনতে গেলেন। পুলিশ আংকেল আর আমি মিলে উনার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছি। আবার পানি আনা হলে পুলিশ আংকেলটি আবারো পানি নিয়ে মাথায় ঢালা শুরু করলেন। মনে হল,উনার নিজের ভাই রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। মুহুর্তেই অনেক মানুষের জমায়েত হয়েছিল,রিক্সাওয়ালা দেখে মূহুর্তেই আবার তা মিলিয়ে গেল!কিন্তু পুলিশ আংকেলটা গেলেন না। মধ্যখানে উনি আবার সিগনাল আটকালেন। সিগনাল ছেড়ে দিয়েই আবার দৌড়ে আসলেন। আনবিলিভএবল!!

আমি শুধু অবাক হচ্ছিলাম! এই সেই পুলিশ! অবিশ্বাস্য লাগছিল, অসম্ভব ভাল লাগছিল সাথে সাথে। এ অনুভূতি প্রকাশ করার মত না!
প্রায় ২০মিনিট পরে জ্ঞান আসলো রিক্সাওয়ালা ভাইয়াটার। রাস্তায় কিছু মানুষের ভিড়ে মাদ্রাসায় পড়ুয়া দুইভাইও ছিল। দেখি,তারা একটা হাফ লিটার ঠাণ্ডা পানি আর ওরস্যালাইন নিয়ে এসেছে। মানুষের প্রতি মানুষের এ এক অন্যরকম ভালবাসা! মানুষের প্রতি মানুষের এ এক অন্যরকম মায়া! অথচ দাঁড়ি টুপিওয়ালা এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দেখলে এই সমাজ কেমন জানি করে আজকাল ইউ ওন্ট বিলিভ হাউ মাচ হ্যাপি এন্ড প্লিজড দ্য সাররাউন্ডিং পিপল অয়আর! স্যালাইন পানিতে দিয়ে রিক্সাওয়ালা ভাইয়াটাকে খাওয়ানোর পড়ে উনি স্বাভাবিক হতে লাগলেন। পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আংকেল দুজনই সাথে থাকলেন! সাথে থাকল মাদ্রাসায় পড়ুয়া দুই ভাইয়াও! গতকাল থেকে আমি নিজেই কয়েকবার বমি করেছি। এই জ্বর, আবার এই মাথাব্যথা। এত ভাল লেগেছে আজকের এই ঘটনাটার ভালোলাগাটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। পুলিশ আংকেলটার প্রেমে পড়ে গেছি!প্রেমে পড়ে গেছি মাদ্রাসায় পড়ুয়া দুই ভাইটার! শাহাবুল আংকেলের মত এমন পুলিশে বাংলাদেশে ভরে যাক। পৃথিবী অবাক তাকিয়ে দেখুক বাংলাদেশের পুলিশ কতটা মহান,কতটা উদার! বাংলাদেশের মানুষ কতটা সহানুভূতিশীল, কতটা সৌহার্দপূর্ণ। অনেক দিন পরে এত ভাল একজন পুলিশ মানুষের দেখা পেলাম,

Related Post