আমাদের তখন ইয়ানফসি ইয়ানফসি অবস্থা। যে যার ভেস্ট পরে মাথা নিচু করে রয়েছি। এরপর উড়োজাহাজটি যখন রানওয়েতে নামলো টের পাচ্ছিলাম, ঘর্ষণে সবকিছু ভেঙ্গে যাচ্ছে। তীব্র পোড়াগন্ধ নাকে এসে লাগলো।… চট্টগ্রামের শাহ-আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-১৪১ এর একজন যাত্রী জনপ্রিয় এক অনলাইন পোর্টালকে এভাবেই তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই যাত্রী বলেন, ফ্লাইটের ককপিট থেকে আমাদের বলা হয়নি ফ্লাইটের কোনও সমস্যা রয়েছে, তারা বলছিলেন রানওয়েতে সমস্যা বলেই কক্সবাজারে ফ্লাইটটি নামানো যাচ্ছে না, এটি চট্টগ্রামে অবতরণ করানো হচ্ছে। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ কক্সবাজার যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করে। এসময় ফ্লাইটটির সামনের চাকা না খোলার কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে। তবে যাত্রীরা সবাই অক্ষত অবস্থায় ফ্লাইট থেকে অবতরণে সক্ষম হন। ওই যাত্রী আরও জানান, প্রায় আধাঘণ্টা ধরে কক্সবাজারের আকাশে উড়োজাহাজটি যখন চক্কর খাচ্ছিল তখন যাত্রীরা এক পর্যায়ে অস্থির হয়ে ওঠেন। যাত্রীরা বিষয়টি জানতে চাইলে ককপিট থেকে জানানো হয়, রানওয়েতে সমস্যা থাকার কারণে ফ্লাইট অবতরণে দেরি হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঘোষণা দেওয়া হয়, কক্সবাজারের রানওয়েতে সমস্যা থাকায় ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হবে।

এরপর চট্টগ্রামের আকাশেও কয়েকবার চক্কর খাওয়ার পর ঘোষণা আসে সকলে যেনো লাইফভেস্ট পরে নেয় এবং মাথা নিচু করে রাখে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও সকলেই সে অবস্থান নিয়ে নেয়। এরপর হঠাৎ ঘর্ষণের শব্দ আসতে থাকে। বুঝা যায় উড়োজাহাজটি চাকার ওপর ল্যান্ড করতে পারেনি। ঘর্ষণে মনে হচ্ছিলো সবকিছু ভেঙ্গে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে পোড়া গন্ধও এসে নাকে লাগে। তবে এ পর্যায়ে উড়োজাহাজটির গতি থেমে গেলে দ্রুত র‌্যাফটগুলো (ইমার্জেন্সি এক্সিট) খুলে দেওয়া হলে যাত্রীরা নেমে আসে।ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, সামনের চাকা না খোলার কারণেই এই জরুরি অবতরণ। পাইলটের দক্ষতার কারণেই যাত্রীদের অক্ষত রেখে উড়োজাহাজটি থেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, বলেন তিনি। সূত্র : সারাবাংলা

Related Post

Spread the love
  • 1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1K
    Shares