বল লেগে নড়ে গিয়েছিল ডান হাতের কনিষ্ঠার হাড়। তাতে কি যায় আসে মাশরাফির। জীবনে বহুবার ছুরি-কাঁচির নিচে শুয়েছেন, শতবার পড়েছেন এমন বেকায়দায়। তাইতো এসবকে তোয়াক্কা না করেই মাঠে নেমে পড়েন ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক। ফিল্ডিং করলেন ক্ষিপ্রতার সাথে। বোলিং করলেন পুরোনো ছন্দে। তার এমন পারফর্মের কারণে অনেকে বুঝতেই পারেননি বড়সড় ব্যথা পেয়েছেন মাশরাফি।

কিন্তু টিম সূত্রে জানা যায়, বুধবারের ঘটনায় মাশরাফির খোটখাট চিড় তৈরি হতে পারে। তারপরও ম্যাচ চলাকালীন কাউকে বুঝতে দেননি বিষয়টি। কারণ বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। জিতলে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে উঠার হাতছানি।

মূলত বুধবারের ম্যাচে শোয়েব মালিককে ফেরানো অসাধারণ ক্যাচটা নেয়ার সময় এই চোট পান মাশরাফি। রুবেল হোসেনের বলে শর্ট মিড উইকেটে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় শূন্যে ভেসে ক্যাচ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ক্যাচটি নেয়ার পর উঠে দাঁড়িয়েছিলেন তখনই। বাঁ হাতে বলটি উঁচিয়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মূর্তির মতো। ক্যাচের মতোই দর্শনীয় উদযাপন। তবে আঙুল চেপে ধরে ছেড়েছেন মাঠ। কিছুক্ষণ পর আঙুলে ব্যান্ডেজ নিয়ে আবার ফিরেছেন মাঠে। বোলিং করেছেন। ফিল্ডিংয়ে ঝাঁপিয়েছেন। ওই আঙুলে আবার ব্যথা পেয়েছেন। তবু দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ছেড়েছেন মাঠ।

ঘটনার পর থেকে মাশরাফি ভক্তদের মন খুঁত খুঁত করছে, কেমন আছেন তাদের গুরু। তিনি পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন তো? অবশেষে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন মাশরাফি।
“শোয়েব মালিকের শটে জোর ছিল বেশ। বাঁহাতে জমে যাওয়ার আগে ডান হাতেও ছুঁয়ে গেছে। তখনই বুঝেছি, ডিসলোকেট হয়েছে। টেনে ঠিক করে দিয়েছি। ব্যথা আছে বেশ। ফিজিও আঙুল দেখে বলেছেন, ছোটখাট চিড় থাকতে পারে। স্ক্যান করালে হয়ত বোঝা যাবে।”
“তবে আমি এখন এটা নিয়েই ভাবছিই না। ফাইনাল তো খেলতে হবেই। এটা নিয়ে ভাবলেই বাড়তি একটা যন্ত্রণা যোগ হবে।”
কিন্তু যদি চিড় সত্যিই থাকে? প্রশ্ন শুনে হাসলেন অধিনায়ক, “সাকিব ভাঙা আঙুল নিয়ে এতগুলো ম্যাচ খেলে গেল, আমি একটা ফাইনাল পারব না?”
দলটায় এখন একেকজন এরকমই, পরস্পরের অনুপ্রেরণা। আর মাশরাফি যখন ঠিক করেন খেলবেন, তাকে দমিয়ে রাখার সাধ্য কোনো চোটের!

Related Post