ম্যাচ শেষে বীরের মত যা বললেন মাশরাফি #জানলে বুকটা গর্বে ভরে যাবে!

শেষ ওভারের নাটকীয়তায় বাংলাদেশকে ৩ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। মাহমুদুল্লাহর করা শেষ ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৬ রান। প্রথম পাঁচ বলে ৫ রান তুলে নিলে, শেষ বলে ১ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়।
শেষ বলটি কেদার যাদভের প্যাডে লাগলে ১ রান নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন কেদার যাদভ ও কুলদীপ যাদভ। কেদার ২৩ ও কুলদীপ ৫ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন।
মাশরাফি ম্যাচ শেষে বলেনঃ
আমি মনে করি আমরা হারলেও আমরা সকলের হৃদয় জয় করতে পেরেছি, আমরা শেষ বল পর্যন্ত বলেছি লড়াই করব এবং শেষ বল পর্যন্তই লড়াই চালিয়ে গেছি। কিন্তু আমরা আজকের ম্যাচে অনেক ভুল করেছি যেগুলা কাম্য না। আমি মনে করে আমরা দারুণ বল করেছি, যদি আমরা ২৪০ রান করতে পারতাম তাহলেই জিততাম। আমরা ব্যাটসম্যানদের বলেছিলাম অন্তত ২৬০ রান করতে কিন্তু মাঝখানে ব্যাটিং ধস সব শেষ করে দেয়। দিন শেষে আমার বোলারদের নিয়ে আমি যথেষ্ট খুশি। আমি চেয়েছিলাম পেসাররা আগে বল করুক, কেননা তারা আমাদের উপর আগ্রাসী ব্যাট করেছিল, তাই শুরু থেকে পেস দিয়ে এটাক করি। আশা করি আমরা একদিন জিতবই।
এর আগে বাংলাদেশের দেয়া মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নামেন দুই ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। এই দুজনের ব্যাটে দারুণ শুরু করে ভারত। মিড অফে ১৫ রান করা ধাওয়ান অপুর বলে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিলে এই জুটি ভাঙ্গে।
এরপর দলীয় ৪৬ রানে ২ রান করা রাইডুকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেছেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাঝে দীনেশ কার্তিককে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করে রোহিত শর্মা। ৪৮ রান করা রোহিতকে অপুর ক্যাচ বানিয়ে আউট করেছেন রুবেল।

রোহিত ফিরে গেলেও রানের চাকা সচল রাখেন ধোনী ও দীনেশ কার্তিক। এই দুজনের ব্যাটেই দলীয় শতক পূরণ করে ভারত। ৩৭ রান করা কার্তিক আউট হয়েছেন মাহমুদুল্লাহর বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে। ধোনী ৩৬ রান করে মুস্তাফিজের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিলে চাপে পড়ে ভারত।
এরপর জাদেজা ২৩ রান করে রুবেলের বলে মুশফিককে ক্যাচ দিলে হারের শঙ্কায় পড়ে রোহিত শর্মার দল। ভুবনেশ্বরও একই কায়দায় মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ২১ রান করে। তবে কুলদীপ ও কেদার দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন শেষ পর্যন্ত।
এই ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুন করেন দুই বাংলাদেশী ওপেনার লিটন দাস এবং মেহেদি হাসান মিরাজ। আগের সব ম্যাচে ওপেনাররা ভাল শুরু এনে দিতে ব্যর্থ হলেও লিটন-মিরাজের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ।
দুবাইয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ফিফটি হাকান লিটন দাস। ফিফটি হাঁকানোর পরও থেমে যাননি তিনি। মিরাজের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে ১০০ রানের পুঁজিও এনে দেন তিনি। কিন্তু দলীয় ১২০ রানে রানের সময় ৩২ রানে মেহেদি হাসান মিরাজকে সাজঘরে ফেরত পাঠান পার্ট-টাইমার কেদার যাদব।

এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ৩১ রান যোগ করতেই মুশফিক, মিথুন, মাহমুদুল্লাহ এবং ইমরুলকে হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। ইমরুল ২ রান করে যুবেন্দ্র চহলের বলে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন।
৫ রান করে কেদারের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন মুশফিক। আর ২ রান করে লিটনের সাথে ভুল বুঝাবুঝির শিকার হয়ে রান আউট হন মিথুন। দ্রুত চার উইকেট হারালেও দেখে শুনে খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস।

লিটনের সেঞ্চুরির পর কুলদিপকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে মাত্র ৫ রান করে বুমরাহ’র হাতে ধরা পড়েন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৫ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশের পক্ষে হাল ধরেন লিটন এবং সৌম্য।
কিন্তু ৩৭ রানের জুটি গড়ার পর আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। কুলদিপ যাদবের বলে ব্যক্তিগত ১২১ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন।

লিটনের বিদায়ের পর নীচের সারির ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়লেও সৌম্যের বিদায়ে ২২২ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।
প্রথম ২০ ওভারে স্কোরবোর্ডে বিনা উইকেটে ১২০ রান যোগ করার পর, পরবর্তী ২৮.৩ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০২ রান যোগ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ-
লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান
ভারত একাদশ-
রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, আম্বাতি রাইডু, দীনেশ কার্ত্তিক, কেদার যাদব, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রবিন্দ্র জাদেজা, ভুবনেশ্বর কুমার, কুলদিপ যাদব, যুবেন্দ্র চহল, জাস্প্রিত বুমরাহ

(Visited 2,848 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...