ছবির এই লোকটিকে দেখে নিশ্চই বুঝতে পারছেন লোকটি কি করেন?।উনার যে কাজ, এই কাজের জন্য যেটা সবচেয় গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল কাস্টমার কি বলছে সেটা ঠিক করে শুনা আর সেটা দেওয়া।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি লোকটি শুনতে পান না, তাই কথাও বলতে ‘

পারেন না।তারপরও কারো উপর নির্ভরশীল না হয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন।গতকাল উনার সাথে দেখা হলো। ফার্মগেটের ওভার ব্রীজের নিচে ইন্দিরা রোডের দিকে।প্রথম দিকে ব্যাপারটা বুঝতে পারি নাই।যখন বুঝলাম তখন কৌতুহল বশত ৩০ মিনিট দাড়ালাম উদ্দেশ্য লোকটা কিভাবে সার্ভিস দেন তা দেখা।যা দেখলাম, উনার বেশ কষ্টই হয় কাস্টমারের কথা বুঝতে।তরপরও হাসি মুখে চালিয়ে যাচ্ছেন।এর মধ্যে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ২ বার উনার কাছে আসেন ফ্রি তে খাওয়ার জন্য।যদিও পাশেই আরেক জন ফুসকাওয়ালা ছিলেন,আমি যযতক্ষণ ছিলাম ট্রাফিক পুলিশ ঐ ফুসকাওয়ালার কাছে একবারও যায় নি ফ্রি তে ফুসকা খেতে।আর একজন লোক এসে উনাক রাস্তা থেকে আরো ৫ মিটার দূরে দাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেন।যদিও তখনো পাশের ফুট-পাতের দোকান গুলো ঠিকই আগের অবস্থানে দাড়িয়ে আছে।

এর মধ্য উনি একটু বাইরে গেলেন শসা আনতে।আমি উনার ফুসকার টেবিলের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম।এক ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণ এসে আমাকে জিজ্ঞাস করে এটা বোবার ফুসকা দোকান না??বোবা কই??আমি উনার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে ছিলাম বললাম বাইরে গেছে।এই ব্যাপারটা আমার কেন জানি খুব খারাপ লাগছে।একটা লোক কথা শুনতে পান না,এটা তো তার দোষ না।উপরওয়ালা যেমনে পাঠাইছেন তাই আমাদের মেনে নিতে হবে।তাহলে কেন লোকটিকে ফুসকাওয়ালা বা এই লোকটি কোথায় জিজ্ঞাস না করে বোবা কোথায় তা বলতে হবে???বোবা এটা তো উনার পরিচয় না।পরিচয় হচ্ছে উনি একজন ফুসকাওয়ালা,তারচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে উনি একজন মানুষ।আমরা মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব।আরে ভাই আমরা নিজেরাই যদি মুল্যায়ন না করি তাহলে আমরা কিসের শ্রেষ্ঠ।মানুষকে মুল্যায়ন করতে শিখুন হোক তার হাত নেই,চোখে দেখতে পায় না,কথা বলতে পারে না।আশা করি আপনিও অন্যদের কাছে থেকে ভালো মুল্যায়ন পাবেন।
©Anayet Hossain

Related Post