ঢবির ভাইরাল ছবিটি আসলে গুজব, তারা বাবা ছেলে নন #দেখুন বিস্তারিত

নিয়ায মাছউদ খান:
সপ্তাহের সেরা ছবি ও লিটন মোস্তাফিজের হৃদয়ের উদারতা। গ্রাজুয়েশন গাউন পড়ে আছে একজন রিক্সা চালক। তাকে স্যালুট জানাচ্ছে একজন টগবগে তরুণ। রিক্সাওয়ালা ছেলেটির দিকে ভাষাহীনভাবে তাকিয়ে আছে আর একজন রিক্সা চালককে নিজের গ্রাজুয়েশন গাউন পড়াতে পেরে ছেলেটির চোখেমুখে তৃপ্তির স্বাদ ভেসে বেড়াচ্ছে।
এমন একটি ছবি তুলেছিলেন লিটন মোস্তাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ তম সমাবর্তনে।

ভাইরাল হয় এই ছবিটি। ভুলটা হলো যেখানে তা হলো সবাই ভেবেছিল, এই মুরব্বী তার বাবা। আসলে উনি তার বাবা নয়। তাহলে কেন এমন ছবি তুলেছিলেন লিটন মোস্তাফিজ! সে বিষয়ে পরিস্কার করে তিনি একটি স্টাটাস দিছেন তার ফেসবুক আইডি দিয়ে।
যা লিখেছেন তিনি-
“স্যালুট…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে এ ছবির একটি বিশেষ অংশ গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছবির ঐ অংশটি সম্ভবত বিভিন্ন গ্রুপ হয়ে ব্যক্তি থেকে আরম্ভ করে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফটোগ্রাফার শাহরিয়ার সোহাগ গতকাল অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে এ ছবিটি তোলেন। রিকশায় যিনি বসে আছেন তিনি আমাদের গর্বিত একটি অংশ। মনেই হয়নি সে মুহূর্তে তিনি অন্য একটি অংশ। পৃথিবীর আর সব বাবার মতো এ বাবার চোখেও আমি স্বপ্ন খুঁজে পাই। মোটেও মনে হয় নি তার গায়ের ঘাম লাগলে দুর্গন্ধী হয়ে উঠবে আমার গাউন। এমন ঘামের চর্মশরীরে বেড়ে ওঠা আমার। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীর চাকা এ ‘পিতা’দের ঘামে ও দমে ঘোরে।

আমরা যখন খুব আনন্দ করছিলাম তখন তিনি আনমনা নজরে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিষয়টি আমি বুঝে ‘পিতা’কে ডাক দেয়। তিনি সাড়া দেন। আমি আমার গাউন, হুড খুলে ‘পিতা’কে পরিয়ে দেই। তারপর ছবি তোলা হয়। একজন গর্বিত গ্রাজুয়েট মনে হচ্ছিলো তখন আমার। এঁদের রক্ত ঘামানো অর্থেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরেছি। এ ‘পিতা’র পোশাক দেখে স্যালুট না করে পারি নি। এ ছবি তুলে রাতেই ফেইসবুকে পোস্ট করেন ফটোগ্রাফার। ছবিটি ভাইরাল হলে দেখা যায় অনেকেই আমাকে ভুল বুঝছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিটি নিউজ হয়ে গেছে। দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে। এসব মানুষেরা আমাদের সত্যিকার বাবা-ই। কারণ আমি নিজেও কৃষকের লাঙলের ফালা বেয়ে উঠে এসেছি…”

এমন সব ছবি আমাদের মনে ইতিবাচক আলোর দীশা বৃদ্ধি করে।

ছবি ও স্টাটাস : লিটন মোস্তাফিজের ফেসবুক থেকে

(Visited 786 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...