‘এত টুকু মেসেজ দেওয়ার জন্য আল্লাহ সর্বশক্তিমান। আল্লাহর ভয় করুন। এটা আমার লাস্ট স্ট্যাটাস। আল্লাহ হাফেজ। আল্লাহ যেন আমাকে জান্নাত নসিব করেন। সবাই দোয়া করবেন’।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেয়ার এক সপ্তাহ পর নীরব সকলকে ছেড়ে নীরবেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরার বেসরকারি সিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এএইচ মোকলেছুর রহমান ওরফে নীরব। তার বয়স হয়েছিল ২৫ বছর।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষ সম্মানের ছাত্র এএইচ মোকলেছুর রহমান নীরব।
সাতক্ষীরা শহরের সরকারপাড়ার কাজী এনামুল হকের ছেলে নীরবের পাকস্থলিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে বছর দুয়েক আগে।

এরপর প্রথমে ঢাকার ডেল্টা, পরে ভারতে চিকিৎসার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়।
কিছুদিন আগে তিনি ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবারও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
সম্প্রতি সাতক্ষীরার ফারজানা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন নীরব। দুদিন আগে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তাকে ভর্তি করা হয় সাতক্ষীরার সিবি হাসপাতালে। সেখানে মারা যান নীরব।
বন্ধুদের সার্বিক সহায়তায় চলছিল নীরবের চিকিৎসা। দিনের পর দিন তারা অর্থ সংগ্রহ করে নীরবকে বাঁচিয়ে রাখার সব চেষ্টা চালিয়েও যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে চির নিদ্রায় চলে গেলেন নীরব।
নীরবের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত তার সহগাঠী বন্ধুরা। শোকে মুহ্যমান তার বাবা এনামুল হক, মা জোলেখা পারভিন এবং ভাই বোনসহ সব প্রতিবেশি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীরবের বন্ধু অরুপ সরকার জানান, মৃত্যুর শেষ কয়েক দিন আগে পর্যন্ত প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে স্যালাইন ও ওষুধ লেগেছে। সেটিও আমরা বিভিন্নভাবে জোগাড় করছি। নীরব বাঁচতে চেয়েছিলো। আমরাও সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু মৃত্যুর কাছে হেরে গেছি আমরা।
নীরবকে তত্ত্বাবধায়নে রাখা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, নীরবকে প্রথমদিকে অপারেশনের কথা বলেছিলাম কিন্তু রাজি হয়নি। পরবর্তীতে ক্যামোথেরাপি দেওয়া হয়। লিভার একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। যা চিকিৎসাসেবার আওতার বাইরে চলে যায়। তার পরিবারকে আগেই সব জানানো হয়েছিলো। শহরের কোর্ট মসজিদে জানাজা শেষে নীরবকে দাফন করা হয়েছে রসুলপুর সরকারি গোরস্থানে।

Related Post