দেশের রাজনীতিকে সবার ‘ভাউজ’-এর সাথে তুলনা করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে এসে সভাপতির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ তুলনা করেন।
president concocation
সমাবর্তনে উপস্থিত গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনীতি হলো সবার ভাউজ। আমাদের গ্রামে একটা কথা আছে, গরীবের সুন্দরী বউ সবার ভাউজ। ‘ভাউজ’ মানে তো আপনারা বুঝবেন না। ‘ভাউজ’ মানে হচ্ছে ‘ভাবী’। অর্থাৎ গরীবের ঘরের সুন্দরী বউকে সবাই গিয়ে ভাবী ডাকে।
আমাদের দেশের রাজনীতির অবস্থা হচ্ছে এমন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে রাজনীতি করতে কারও কোনো যোগ্যতা লাগে না। আমি যদি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাই বা মেডিকেলে গিয়ে ডাক্তারি পড়াতে চাই তাহলে কি তারা আমাকে নিয়োগ দিবে? দিবে না। কিন্তু রাজনীতির মাঠ সবার জন্য উম্মুক্ত।
৬২ বছর চাকরি করা সচিব, পুলিশের বড় কর্তা আইজি, ডিআইজি, আর্মি অফিসার, সেনাপ্রধান, বিসিএস অফিসার সবাই চাকরি শেষ করে বলে আমি তো রাজনীতি করবো। দেখা গেলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সাহেবও অবসর নেয়ার পর বললেন আমি রাজনীতি করবো। ব্যবসায়ীদের কথা আর নাই বললাম। কিন্তু এমনটা হওয়া উচিৎ নয়।
রাজনীতি করতে হলে যোগ্য নেতা প্রয়োজন। আর তা তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসা তরুণ-যুবকদের দিয়েই সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় এ অবস্থা উত্তরণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার ভিসি মো. আক্তারুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে উপযুক্ত ছাত্রনেতারা রাজনীতিতে আসুক, এটাই আমি চাই।
ভাষণের শুরুতেই সমাবর্তনে উপস্থিত বিশেষ অতিথি, ভিসি, প্রো-ভিসি, অধ্যাপক ও উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আসলে আমার মন খুলে কথা বলতে ইচ্ছা করে। আবার এখানে আসলে কথা বলতে ভয়ও লাগে। কারণ এখানে সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরেছেন, আর আমি এখানে চান্সই পাইনি।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এবারের সমাবর্তনে বিশেষ বক্তা ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
এবারের এই সমাবর্তন ছিলো ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ সমাবর্তন। এ বছর ২১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

Related Post