কবি আল মাহমুদ অসুস্থ। বার্ধ‍ক‍্যতাজনিত অসুস্থতা। অনেকদিন ধরে তিনি বিছানায় শয‍্যাশায়ী। যার লেখা কবিতা পাঠ‍্যবইয়ে পড়ে পড়ে আমরা বড় হয়েছি, যার কবিতা পড়লেই মনের ভেতর অন‍্যরকম একটা ভাললাগা কাজ করে, মন এবং মননকে জাগিয়ে তুলে, বোধের জগতকে নাড়া দিয়ে যায়, সেই প্রিয় কবির এমন অবস্থা দেখলে সত‍্যি-ই অনেক কষ্ট লাগে!
বাংলা-সাহিত‍্যের গুরুত্বপূর্ণ ও খ‍্যাতিমান কবিদের মধ‍্যে, নি:সন্দেহে, অন‍্যতম একজন কবি আল মাহমুদ। বাংলা-সাহিত‍্যে যার অবদান অনেক। সেই কবিকে নিয়ে, কবির অসুস্থতা নিয়ে এক শ্রেণির উগ্র-চেতনাধারীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোস‍্যালমিডিয়া সাইটে, ব্লগে এবং নিউজে ভুলভাল তথ‍্য ছড়াচ্ছে । সাধারণ পাঠকদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কেন? কারণটা কি জানেন?
তিনি (কবি) একসময় ইসলামিক মাইন্ডের ছিলেন না। সেই সময় তিনি ঐসব চেতনাবাজদের কাছেও খুব সমাদৃত ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তাঁর ভুলটা বুঝতে পেরে ইসলামের দিকে ফিরে এলে ঐসব চেতনাবাজরা বিষয়টাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি; আজ অবধিও না। তাই তাঁকে যে কত রকম অযৌক্তিক এবং কুরুচিপূর্ণ ট‍্যাগ দিতে লাগল…! এই হল আমাদের দেশের তথাকথিত চেতনাবাজদের অবস্থা! ইসলামের দিকে কেউ ধাবিত হলেই বিনা কারণে এদের চুলকানি শুরু হয়ে যায়। তাতে করে কি হয়েছে? কবি’র কি এতটুকু জনপ্রিয়তা কমেছে? না, বরং বেড়েছে। ভুলে গেলে চলবে না, তিনি আল মাহমুদ; যেনতেন কোনো লেখক বা কবি নন যে, ইচ্ছে করলেই তাঁকে একপাশে সরিয়ে দেয়া যাবে। বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস টানতে হলে তাঁর নামটি অতি গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। তাঁকে ছাড়া বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস অসম্পূর্ণ! তিনি এতটাই গুরুত্বের দাবি রাখেন! বোদ্ধা পাঠকরাও ভাল লেখা এবং মন্দ লেখার মধ‍্যে পার্থক‍্য বুঝেন। বেশ ভাল করেই বুঝেন। সুতরাং, তাঁকে নিয়ে কথা বলার আগে অনেক কিছু ভেবেই কথা বলতে হবে!

কয়েকদিন আগে উগ্রটাইপের একদল লেখক এবং চেতবাজদের একটি দল ফেসবুকে খবর ছড়ালো- তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে তাঁর ছেলে-মেয়েরা নাকি বাসা থেকে চলে গেছে! অথচ পুরো বিষয়টিই ছিল ডাহা মিথ‍্যাচার! বাস্তবে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি যতদূর তাঁর ফ‍্যামেলিকে জানি, তাঁর ছেলে-মেয়েরা কখনই এমন জঘণ‍্য কাজ করতে পারেন না! তিনি তাঁর ছেলে-মেয়েদেরকে এমন শিক্ষা দিয়ে বড় করেন নি। কবির খুব কাছের পরম স্নেহের একজন হল বন্ধু আবিদ আজম। সেও বিষয়টা নিয়ে যথেষ্ট বলেছে এবং বলছে! তারপরও যারা বিষয়টা নিয়ে ভাইরাস ছড়াচ্ছে, তাঁকে মিথ‍্যা অপবাদ দিচ্ছে, তাঁর নামে কুৎসা রটাচ্ছে- এদেরকে কোনো কালেই আমার সুস্থ মনে হয় নি; আজও না।
তাঁর সাথে যে কয়েকবার দেখা-সাক্ষাত হয়েছে, কথা হয়েছে, ছোটখাটো আড্ডা হয়েছে, তাঁর বাসায় গিয়েছি, সময় কাটিয়েছি, কথার ফাঁকে-ফাঁকে ছোটখাটো ইন্টারভিউ নিয়েছি, প্রত‍্যেকবারই বেশ কিছু ভাল সময় অতিবাহিত করেছি! তাঁর মধ‍্যে অতটা কোনো হিংসা বা অহংকারও দেখিনি, যা সাধারণত: অন‍্য লেখকদের মধ‍্যে দেখা যায়! ‘সোনালি কাবিন’ থেকে নিয়ে আজ অবধি তাঁর যতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে, প্রত‍্যেকটা বই থেকেই কিছু না কিছু নেবার আছে। ভাবার আছে। বইগুলো না-পড়লে তা অনুভব করা কঠিন! বইগুলো বাংলা-সাহিত‍্যের সম্পদ তো বটেই! সেই রকম একজন গুণী মানুষকে নিয়ে মানুষ এতটা মিথ‍্যাচার করে কেমন করে? মানুষ এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে…! যে দেশে গুণী-মানুষের কদর হয় না সে দেশে গুণী-মানুষ জন্মাবে কেমন করে?!
আপনার সুস্থতা কামনা করছি। আল্লাহ্ যেন আপনাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন!

Related Post

Spread the love
  • 666
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    666
    Shares