ওয়ানডেতে টপ-অর্ডার কিংবা মিডল অর্ডারে আশরাফুলের অভিজ্ঞতা ও স্কিল কাজে দিতে পারত বাংলাদেশের। তাঁর হাতে স্ট্রোক রয়েছে প্রচুর। স্ট্রাইক রোটেটে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এছাড়া এখনও বড় ইনিংস খেলার সামর্থ রাখেন তিনি। কাভার ড্রাইভ, পুল, হুক কিংবা স্কুপ খেলার দক্ষতা আজো রয়েছে তাঁর। ঘরোয়া লিগেও তার সত্যতা জানান দিয়ে চলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর অভিজ্ঞতাটাও একটা বড় বিষয়। তবে বাস্তবতা এটাই যে, এখনও আশরাফুলকে নিয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেননি নির্বাচকরা। তবে টেস্টে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে কীনা, তার উত্তরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজটি অত্যন্ত কঠিন হবে। তামিম-সাকিব না থাকায় দল গঠনে বেশ পরিক্ষা দিতে হবে।’ সেদিক থেকে আশরাফুল দলেও ফিরতেও পারেন। এই সিরিজে একটা সুযোগ এখনও রয়ে গেছে তাঁর। মোহাম্মাদ আশরাফুল নিঃসন্দেহে দেশের একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁর প্রতিভা নিয়ে কোনো কালেই প্রশ্ন ছিল না। খেলেছেন বেশকিছু ম্যাচ জয়ী ইনিংস। বাহারি স্ট্রোকের পাশাপাশি রয়েছে ইম্প্রোভাইজ করার সহজাত গুণ। তবে বরাবরই আশরাফুলের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর ধারাবাহিকতা। ওয়ানডে বা টেস্টে তাঁর গড় মোটেও আহামরি কিছু নয়। ফলে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আশরাফুল নিজেকে সেই উচ্চতায় নিতে পারেননি, যেখানে তাঁকে ভাবা হয়েছে। এখন বিতর্ক ও শাস্তির মেয়াদ পেরিয়ে নতুন করে সবাই স্বপ্ন দেখছেন তাঁকে নিয়ে। সেটা বাস্তবায়ন করার সুযোগ তিনি পাবেন কিনা, তা বলা মুশকিল। তবে বয়স, ঘরোয়া লিগের ফর্ম ও অভিজ্ঞতা আমলে নিলে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা সুযোগ তিনি পেতেই পারেন। বিশেষ করে সাকিব-তামিম ও মুশফিকের ইনজুরিতে নিজেকে আরেকবার প্রমাণ করার মওকা তিনি পেলেও পেতে পারেন। আশরাফুল ভক্তরা চেয়ে থাকবেন সেদিকেই।

Related Post