বাঁশখালীতে ‘পাগলা হাতি’! বাঁশখালীতে একটি বন্য হাতির আক্রমণে তিন মাসে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিদিনই এ হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে এলাকাবাসী। সর্বশেষ গত ২১ জুন শীলকূপ পাহাড়ি এলাকায় রাবেয়া বেগম (২৮) নামের এক বিধবা বেগুনক্ষেতে কাজ করার সময় এ বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণ হারান। হাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারে যেমন শোকের মাতম থামছে না, তেমনি নতুন আক্রমণের আতঙ্কে তটস্থ এলাকাবাসী।

বুধবার রাতেও বাঁশখালী পৌর এলাকার জঙ্গলজলদি, ভিলেজারপাড়া, কাজীরপাড়া এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে এ হাতিটি। কলাবাগান, আখক্ষেত, ক্ষিরাক্ষেত ও ফসলি জমি মাড়িয়ে তছনছ করার পাশাপাশি গাছের কাঁঠাল খেয়ে সাবাড় করেছে। জঙ্গলজলদি গ্রামের মনির আহম্মদ, রহিমা আক্তার, জানে আলম, নয়ন দাশ জানান, প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনা মানুষের সামনে ঘটলেও তাদের কিছুই করার ছিল না। এ হাতিটির আক্রমণ ও ব্যাপক ক্ষতিসাধনের ঘটনায় এলাকাবাসী এটিকে পাগল আখ্যা দিলেও বন বিভাগ তা মানতে রাজি নয়। বন বিভাগের জলদি রেঞ্জের রেঞ্জার মো. কামরুল মোজাহেদ বলেন, হাতিটি পাগল হয়নি। বন বিভাগের লোকজন হাতিটিকে প্রতিদিনই পাহাড়ে তাড়িয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, বাঁশখালী উপজেলা সদরসংলগ্ন ৯ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় হাতিটি দিন-রাত তাণ্ডব চালিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। হাজার হাজার মানুষ দলবদ্ধ হয়ে প্রতিদিন লোকালয় থেকে আগুন জ্বালিয়ে ও টিন বাজিয়েও হাতিটিকে তাড়ানো যাচ্ছে না।

উল্টো কখনো কখনো খেপে গ্রামবাসীকে তাড়া করে হাতিটি। বন বিভাগ হাতিটিকে না তাড়িয়ে উল্টো মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করে দিচ্ছে হাতিটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত না করার জন্য। ফলে বাঁশখালী পৌর এলাকা, শীলকূপ ও চাম্বলের ৮০ হাজার মানুষের চোখে ঘুম নেই। বাঁশখালী পৌরসভার চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, বিভিন্ন সময় হাতির আক্রমণে বাঁশখালীতে মানুষ মারা যাওয়ায় ফসলি জমি রক্ষার চেয়ে জীবন রক্ষা করা নিয়ে গ্রামবাসী আতঙ্কে আছে। বন বিভাগের উচিত পাগলা হাতিটিকে গভীর জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

https://www.facebook.com/Mysteriousearth/videos/307997796683532
সূত্রঃ .kalerkantho.com

Related Post