বিভিন্ন জায়গায় জাতায়েতের জন্য সাধারন জনগণের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় একটি বাহন হচ্ছে বাস। রাজধানীতে শত শত বাস চলাচল করে প্রতিদিন। কিন্তু সেখানে বিপত্তিও আছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। বারিধারায় একটা বেসরকারি গণমাধ্যমে চাকরি করি। থাকি ফার্মগেট এলাকায়। কর্মস্থলে আসতে প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ফার্মগেট থেকে অফিসের এই রুটে হাতে গোনা দু’একটি বাস আসা-যাওয়া করে। যার একটি হলো মতিঝিল বনানী ট্রান্সর্পোটের ছয় নম্বর, অন্যটি দেওয়ান পরিবহন। কিছুদিন আগে দেওয়ান পরিবহনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় ভিকটিম ছাত্রীটি এ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেয়। সেই থেকে দেওয়ান বাসে উঠা বাদ দিয়েছিলাম। অগত্যা ছয় নম্বরেই উঠতে হয়। আর ছয় নম্বরের কথা সবাই হয়তো জেনে থাকবেন।একদিনের ঘটনা… আমি মহিলা সিটের দ্বিতীয় সারির পাশে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ এক মেয়ের চিৎকার, ‘তোর ঘরে মা বোন নাই’। কথায় কথায় বেশ কথা কাটাকাটি। আশপাশ থেকে শোনা যাচ্ছে, পাবলিক পরিবহনে একটু আধটু হাত লাগবেই। সহ্য করতে না পারলে বাসে চড়েন কেন? মেয়েটি আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। জিজ্ঞেস করলাম আপু কী হয়েছিল? তিনি যা বললেন আমি রীতিমত চমকে গেলাম। আরও বেশি চমকে গেলাম এই শুনে যে, ভদ্রবেশী এক যাত্রীর দ্বারাই নাকি তিনি যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

শুধু ওই মেয়েটিই নয়, গণপরিবহনে প্রতিদিন কোনো না কোনো মেয়ে এ ধরনের হয়রানির শিকার হরহামেশাই হয়ে থাকেন। সামাজিকতার ভয়ে যার অধিকাংশ ঘটনায় প্রকাশ করেন না নির্যতিত নারীরা। সম্প্রতি কয়েকজন নারী লোকলজ্জ্বার ভয় আর কলঙ্ক উপক্ষো করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেই সব অপ্রীতিকর ঘটনা প্রকাশ করেছেন। আর তা দেখে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা হয়তো জানেনই না যে, গণপরিবহনে নারীরা প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হন। হয় পুরুষ যাত্রী দ্বারা নয়তো পরিবহন শ্রমিকদের দ্বারা। তিতুমীর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী পুষ্পিতা (ছদ্মনাম) বলেন, ‘বাসে উঠতে গেলে আজকাল খুব ভয় লাগে। উঠার সময় দেখা যায় উঠেন উঠেন বলে গায়ে হাত দেয় হেলপাররা, হাত ধরে, উঠার সময় পিঠেও হাত দেয়। যদি বলি মামা হাত ধরা লাগবে না। তখন হাসাহাসি করে। কেমন অশ্লীল চাহনি দিয়ে তাঁকায়, যা দেখতেই খুব বাজে লাগে।’ যদিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরেও কী এর কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে? নাকি উসকে দেয়া হচ্ছে অপরাধীদের। এ নিয়েও নানা জনের রয়েছে নানামত।

Related Post

Spread the love
  • 243
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    243
    Shares