ঢাকার উত্তরায় ৮ হাজার ৭৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ১০৪টি ভবনে ফ্ল্যাটগুলো করা হবে। প্রতি ভবনে ফ্ল্যাট থাকবে ৮৪টি। এতে ৫ হাজার ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

গত বুধবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইন্দোনেশিয়ায় ছিলেন।

জানা গেছে, ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে মালয়েশিয়া। আর পুরো কাজটি বাস্তবায়িত হবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার পর্যায়ে (জিটুজি)। আর ভবনগুলো করা হবে উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘বি’ ও ‘সি’ ব্লকে। একেকটি ভবন হবে বেইসমেন্টসহ ১৬ তলাবিশিষ্ট। এর মধ্যে ৫২টি ভবনে করা হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট আয়তনের ৪৩৮টি ফ্ল্যাট। আর অন্য ৫২টি ভবনে করা হবে ৮৫০ বর্গফুট আয়তনের ৪ হাজার ৩৮৮টি ফ্ল্যাট। কাজ পেয়েছে রেড টেন ইনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি।

আগামী দুই বছরের মধ্যেই ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ করা সম্ভব বলে ক্রয় কমিটিতে রাজউক ধারণা দিয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। রাজউক আরও বলেছে যে ভবনগুলো করা হবে ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড বিল্ডিং সিস্টেমে (আইবিএস)। ভবন তৈরিতে এটি একটি নতুন পদ্ধতি, যা মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি ভবনের ছাদ নির্মাণে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগলেও আইবিএসে ছাদ তৈরি করতে লাগে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন।

বুধবারের বৈঠক শেষে অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণের জন্যই বাংলাদেশে প্রথম আইবিএস পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এই পদ্ধতিতে নির্মিত হওয়া ছাদে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে করে পানির কোনো সমস্যা না হয়। প্রকল্পের আওতায় স্কুল, কলেজ ও কনভেনশন সেন্টার থাকবে। এ ছাড়া থাকবে খেলার মাঠ ও সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট।

রাজউক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যম আয়ের লোকদের জন্য তৈরি করা ফ্ল্যাটগুলো সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। ফ্ল্যাট কিনে সাধারণ গ্রাহকেরা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ থাকায় রাজউক এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। ফ্ল্যাট নির্মাণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কয়েক বছর আগেই সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবাসন ব্যবসায়ীদের সমিতি রিহ্যাবের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রাজউকের ভালো নয়। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে এর আগে ১৬ তলার ৪৯টি ভবনের কাজ দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনা প্রপার্টিজকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এনা প্রপার্টিজের সঙ্গে একপর্যায়ে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয় রাজউক। এ কারণেই রাজউকের তত্ত্বাবধানে ফ্ল্যাট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, রাজউকের একটি কারিগরি দল মালয়েশিয়া সফর করে এসেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইবিএসে ভবন তৈরিতে প্রচলিত পদ্ধতির মতো কলাম, বিম, ছাদ, দেয়াল, ছায়া-দেয়াল ইত্যাদি নির্মাণ করা হয় না, করা হয় অ্যালুমিনিয়াম কাঠামো।

রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, পুরো বিষয়টি তাঁর ভালো জানা নেই।

Related Post