গান গেয়ে যেই মানুষটি সারা জীবন পার করলেন সেই মানুষটি তার নিজের ছেলেকেই তার পেশায় আসতে দেননি।

বনছিলাম সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর কথা। অনেকেই এটা নিয়ে বেশ কয়েকবার তাকে প্রশ্ন করেছিলেন আর প্রতিবার তিনি জবাবে বলেছিলেন, ‘আমি এই পেশায় যত কষ্ট করে ঘাম ঝড়িয়ে টাকা উপার্জন করেছি, আমি চাই না আমার ছেলে এত কষ্ট করুক। কেননা আমি বাবা হয়ে তা মেনে নিতে পারব না। তাই তাকে পড়াশোনার জন্য বাইরে পাঠিয়েছি। বলে দিয়েছি গান করবে শখে। যখন তুমি চাকরি করে বিশাল বাংলোয় থাকবে, তোমার বাসায় রুম ভরা গিটার থাকবে, তোমার বন্ধুরা আসবে তোমার গিটার বাজানো শোনার জন্য।’

এতো লম্বা ক্যারিয়ারে তার কোন বদনাম নেই বললেই চলে। ছোটদের যেমন দিয়েছিলেন ভালোবাসা। ঠিক তেমনি বড়দের দিতেন শ্রদ্ধা। বেশিভাগ সময়ে তিনি মজা করে বলতেন দুর্ণাম করলেই দুর্ণাম হবে তাই কিছু না করাটাই ভালো।

নিজেকে কখনোই গিটার বাদক মনে করেননি আইয়ুব বাচ্চু। সব সময় বলতেন আমি গিটার বাদক নই আমি গিটারের সেবক। দীর্ঘ দিনের ক্যারিয়ারে গিটারের সেবক পেয়েছেন কোটি ভক্তের ভালোবাসা। তারপরও কোথায় যেন ছিল তার এক অপূর্ণতা। বেশ হতাশা নিয়ে তাকে একবার বলতে শোনা গিয়েছিল, সব কিছু থেকে পালিয়ে যেতে চাই অনেক দূরে। অনেক তো করলাম আর করতে ভালো লাগছে না কিন্তু কেন এই পালিয়ে যাওয়ার ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘হলো তো, সবই করেছি, সবাই বড় হয়েছে, চারপাশের সবাই বড় হয়েছে, এখন সবাই সেটেল। তাই এখন বর্ব মার্লির মতো হয়ে যেতে চাই।’

পরিবারের সবাইকে এক সাথে নিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম উল্লেখ করে আইয়ুব বাচ্চু বলে ছিলেন, ‘আমার দাদা-দাদী, চাচা-চাচী সবাই এক সাথেই থাকতো। এক উঠনেই আমারা সবাই থাকতাম। আমিও তাই চেয়েছিলাম কিন্তু আমার মনে হয় এইটা অযৌক্তিক। এখনও আমি সেকালে রয়ে গেছি। এখন পাশের বাড়িতে মানুষ থাকবে কিন্তু কেউ তার খবর জানবে না।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু সকালে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। অসুস্থ হয়ে পড়া অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নেয়া হয় মগবাজারে তার স্টুডিও ‘এবি কিচেনে’। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নেয়া হয় চ্যানেল আই কার্যালয়ে। সেখানে তৃতীয় জানাজা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

Related Post

Spread the love
  • 739
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    739
    Shares