টাইগারদের চোখ এবার শিরোপায়। বিস্তারিত পড়ে নিন।

চট্টগ্রাম: ইমরুল কায়েসের অনবদ্য সেঞ্চুরি ও বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি সহজভাবেই জিতেছে বাংলাদেশ। ২৮ রানের ওই জয়ে অনেকটাই নির্ভার মাশরাফি বিন মর্তুজা। এখন বাকি দুই ম্যাচ জিতে শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগারবাহিনী। এমনটাই জানালেন টাইগার দলপতি। ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ খেলতে চট্টগ্রামে অবস্থান করছে টাইগাররা। সেখানেই পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি সারছেন মাশরাফিরা। সকাল থেকে টানা অনুশীলন শেষে মাশরাফি যখন গণমাধ্যমের সামনে এলেন, শরীরের অভিব্যক্তিই জানান দিচ্ছিল ভীষণ নির্ভার টাইগার দলপতি। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথায় কথায় জানালেন নির্ভার থাকার পেছনের গল্পও।

মাশরাফির ভাষায়, তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি জিতে আমরা এগিয়ে আছি। যেকোনো দলের জন্য দৃশ্যত এটি বাড়তি সুবিধা। তাই টেনশান কাজ করছে না। শিরোপার দিকেই চোখ আমাদের। মাশরাফি বলেন, গত ম্যাচে আমাদের টপ কিংবা মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা রান না পেলেও নিচের দিকে এসে সাইফউদ্দিন রান পেয়েছে। এটি দলের জন্য ইতিবাচক। খেলায় যেকোনো পরিস্থিতিতে একজন ব্যাটসম্যান মাঠে দাঁড়াতে পারাটা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। সাইফউদ্দিনকে নিয়ে টাইগার দলনেতার প্রশংসাসূচক বাক্য এখানেই শেষ হয়নি। আগের কথার সূত্র ধরে বললেন, দীর্ঘদিন ধরেই একজন পেসার কাম অলরাউন্ডার খুঁজছিলাম আমরা। মিরপুরের ম্যাচে সাইফউদ্দিনের পারফরম্যান্স আমাদের আশা জুগিয়েছে।

২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা জয় পাওয়া টাইগার বাহিনীর জন্য চট্টগ্রাম বরাবরই লাকি গ্রাউন্ড হিসেবে ধরা দিলেও বুধবারের (২৪ অক্টোবর) ম্যাচে শিশিরকে (কুয়াশা) ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন ম্যাশ।
ক’দিন ধরেই চট্টগ্রামে শিশির পড়ছে বেশ। দিবা-রাত্রির ম্যাচে শিশির বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। জিম্বাবুয়ে দলেও সিনিয়র খেলোয়াড়রা এসেছেন। তাদেরও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সব কিছু মাথায় রেখেই আমরা ম্যাচ ঘিরে পরিকল্পনা করছি’, বললেন মাশরাফি। তবে এজন্য দলে তেমন পরিবর্তনের আভাষ মেলেনি তার কণ্ঠে। অভিষেকে ফজলে রাব্বি ভালো করতে না পারলেও তাকে আরও সুযোগ দেওয়ার পক্ষে ম্যাশ। বলেন, একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে কাউকে বিচার করা যায় না। এজন্য রাব্বিকে আরও সুযোগ দেওয়ার পক্ষে আমি। এ কথার পেছনে যুক্তিও দিয়েছেন টাইগার দলনেতা।

‘রাব্বি ঘরোয়া লিগে ভালো খেলেছে। তবে জাতীয় দলে খেলাটা একটু টাফ। এখানে গ্যালারি ভর্তি দর্শক, ক্যামেরা, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- এসবের বাড়তি নজর থাকে। তাই নতুন খেলোয়াড়দের জন্য এসব চাপ সামলে ভালো খেলাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।’-যোগ করেন মাশরাফি।জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) মাশরাফির একটু পর গণমাধ্যমের সামনে আসেন জিম্বাবুইয়ান দলের কোচ লালচাঁন্দ রাজপুত। মাশরাফিকে যতোটা নির্ভার দেখা গেছে ঠিক ততটাই চিন্তিত মনে হলো তাকে। অল্পকথায় বললেন, দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সিরিজে ফিরতে চাই আমরা। দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা আছেন, তারা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারলে এটি কঠিন কিছু নয়।
বুধবার (২৪ অক্টোবর) নগরের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুপুর আড়াইটায় তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। একই ভেন্যুতে একই সময়ে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (২৬ অক্টোবর)। ওয়ানডে সিরিজ শেষে ৩-৭ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াবে দুই দলের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। এ ম্যাচ দিয়েই নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামটির টেস্ট অভিষেক হবে।টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১১-১৫ নভেম্বর মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।

(Visited 7 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...