প্রথম ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ দল যাতে আত্মতৃপ্তিতে ভেসে না যায়, সে জন্য সতীর্থদের সতর্ক করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বলেছেন, এই সিরিজে এখনও কঠিনভাবে ফিরে আসতে পারে জিম্বাবুয়ে। তবে সেই ফিরে আসাটা বাংলাদেশ অন্তত প্রত্যাশা করবে না। তারা চাইবে আজই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপটের সঙ্গেই জিতেছে বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশের জন্য যেমন সিরিজ জয়ের ম্যাচ, তেমনই জিম্বাবুয়ের জন্য সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। আর এই দুইরকম মনোভাব নিয়ে আজ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। দিবা রাত্রির এ খেলাটিও শুরু হবে দুপুর আড়াইটা থেকে। খেলাটি লাইভ দেখা যাবে এই লিঙ্কে

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত কয়েক বছর ধরেই যে কোনো ফরম্যাটের লড়াইয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকা দল। ওয়ানডেতে দুই দলের পার্থক্য তো আরও পরিষ্কার। এখানে বাংলাদেশ আইসিসি র্যাংকিংয়ে জিম্বাবুয়ের চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে আছে। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে সেই পার্থক্য পুরো ফুটে না উঠলেও বাংলাদেশ ধরে রেখেছিল কর্তৃত্ব। প্রথম ম্যাচে চাপের মুখেও ভেঙে না পড়ার যে বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশ দেখিয়েছে, সেটা আলাদা করে প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে ইমরুল কায়েসের এক প্রান্ত আগলে রেখে করা ব্যাটিং এবং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনের প্রথম ফিফটি বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে এই সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য নিজেদের বেঞ্চের শক্তি ঝালাই করে দেখার ভালো একটা সুযোগ। সাইফউদ্দিনের এই পারফরম্যান্স অবশ্য বাংলাদেশকে মধুর একটা সমস্যায় ফেলেছে। সাইফ গত ম্যাচে খেলেছিলেন একটু ইনজুরিতে ভোগা রুবেল হোসেনের বদলে। সেই রুবেল আজকের ম্যাচের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গতকাল অনুশীলনও করেছেন। অবশ্য অধিনায়ক মাশরাফি ইঙ্গিত দিয়েছেন রুবেল অন্য কারো বদলে দলে ঢুকলেও সাইফ দল থেকে বাদ পড়ছেন না। মাশরাফি এর আগেই বলে রেখেছেন, প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও অভিষিক্ত ফজলে মাহমুদ রাব্বির ওপরও ভরসা রাখতে চান। ফলে আজ অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামার সম্ভাবনা বাংলাদেশের।
জিম্বাবুয়ে দলেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। তারাও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখতে চায়। জিম্বাবুয়ের কোচ লালচাদ রাজপুত বলেছেন, সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারলে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে ফেরা সম্ভব। প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও ৫০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করা এবং ২৪৩ রান করতে পারাটা জিম্বাবুয়েকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
চট্টগ্রামের এ মাঠে অবশ্য বড় একটা ভূমিকা রাখতে পারে টস। সমুদ্রের পাশেই অবস্থিত এ স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা হতেই শিশিরের প্রকোপ দেখা যাবে। ফলে পরে বল করাটা খুব কঠিন একটা কাজ হয়ে পড়বে। তাই দুই দলই চাইবে টসে জিতলে আগে ফিল্ডিং করতে। বিশেষ করে স্পিন আক্রমণ বড় ভরসা হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য আগে ফিল্ডিং করাটা এখানে জরুরি হয়ে উঠবে।

Related Post