একজন মুক্তিযোদ্ধা। নাম কাজী আব্দুল বারিক বয়স ৮৫ ছুঁই ছুঁই….

মাতৃভূমি মুক্ত করতে যুদ্ধ করেছেন ১৯৭১ সালে…নিজ জীবন যুদ্ধে তিনি এখন একজন জুতা সেলাইয়ের কারিগর বা মুচি! মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নেই, তবুও স্বপ্ন দেখেন শেষ বয়সে অন্তত ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন। নেই কোন অনুযোগ বা অভিযোগ। কোন সাহায্য বা দয়াও নয়। শুধু আশা করেন সাদা কফিনের উপর এক টুকরো লাল সবুজের পতাকা,

মুক্তিযোদ্ধা বলতে এমন একদল জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয় যারা নিজেদের বা অন্যকারো রাজনৈতিক মুক্তি বা স্বাধীনতা লাভের উদ্দেশ্যে সংগ্রামরত রয়েছে।[ যদিও সাধারণভাবে “মুক্তিযোদ্ধা” বলতে “মুক্তির জন্য লড়াইরত” বোঝায়, তবুও সশস্ত্র প্রতিরোধকারীদের নির্দেশ করতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বিপরীতে শান্তিপূর্ন পন্থায় আন্দোলনকারীর ক্ষেত্র তা ব্যবহারগতভাবে একিভূত করা যায় না (যদিও ভাবগতভাবে এটা যৌক্তিক)। সাধারণভাবে বলা যায়, শারীরিক বল প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনরতদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী গ্রুপ এম.কে. (Umkhonto we Sizwe)-এর সদস্যদের কথা বলা যায়; এরা উভয়ই তাদের সমর্থকদের নিকট “মুক্তিযোদ্ধা” হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে, শান্তিপূর্ন পন্থায় আন্দোলনরতরা আদর্শগতভাবে “মুক্তিযোদ্ধা” হরেও তাদেরকে বরং রাজনৈতিক কর্মী বা মানবাধিকার কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ, মহত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন বা কালোদের অধীকার আদায়ের আন্দোলন।মুক্তিযোদ্ধারা যে সরকার বা সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, সেই দল এবং তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচ্ছান্নতাবাদী, দুষ্কৃতিকারী, আতঙ্কবাদী, নৈরাজ্যবাদী বা সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই কারণেই বলা হয়, “একজনের জন্য যে সন্ত্রাসী অন্যের জন্য সে মুক্তিযোদ্ধা”।

(Visited 31 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...