র‌্যাপি আনন্দ পামুঙ্কাস নামের শিশুটির বয়স মাত্র দুই বছর। অল্প বয়সী ইন্দোনেশিয়ান এ শিশু ইতোমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সে ধূমপানে এতটাই আসক্ত যে, দিনে তার কমপক্ষে ৪০টি সিগারেট লাগে।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মায়ের দোকানের আশপাশে পড়ে থাকা সিগারেটের টুকরা জ্বালিয়ে তার ধূমপান আসক্তির শুরু। মূলত তার থেকে বয়সে বড়রা তাকে সিগারেট খেতে অভ্যস্ত করে ফেলে। প্রথমে তারা যখন সিগারেটের টুকরাতে আগুন ধরিয়ে তার হাতে ধরে দিত, তখন সে বিষয়টা বেশ সানন্দেই গ্রহণ করত। তার হাতে সিগারেট ধরিয়ে দিলে তার মুখে স্মিথ হাসি ফুটে উঠত। এক পর্যায়ে সে ধূমপানে এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ে যে, দোকান থেকে সিগারেট চেয়ে নেয়া শুরু করে।
র‌্যাপির মা মারিয়াতি (৩৫) জানান, তার ছেলের উন্মাদনা ঠেকাতে তিনি প্রতিদিন দুই প্যাকেট সিগারেট কিনতে বাধ্য হন। সে তার পছন্দের ব্র্যান্ডের সিগারেট না পেলে খুব আগ্রাসী হয়ে যায় এবং রাগে ফেটে পড়ে।
‘কফি পান ও কেক খাওয়ার সময় তার সিগারেট লাগবেই। আমি তাকে সিগারেট না দিলে সে প্রচণ্ড ক্ষেপে যায়। সারাদিন কান্নাকাটি করতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে সিগারেট দিতে হয়। দুই মাস হলো সে এমনটা করছে।’ জানান র‌্যাপির মা।
র‌্যাপির মা আরও জানান, সিগারেট না পেলে সে ঘুমাতে পারে না। সে সারাক্ষণ ছটফট করতে থাকে এবং কান্নাকাটি করে। ফলে তার কান্না থামাতেই সিগারেট দিতে বাধ্য হই।’ তিনি বলেন, ‘দিনে তার কমপক্ষে ৪০টি সিগারেট লাগে। যদিও এটা ব্যয়বহুল, তারপরও আমাদের করার কিছু থাকে না।’
র‌্যাপির বাবা মিসবাহ উদ্দিন (৪০) নিজেও একজন ধূমপায়ী। তবে তার ছেলে ধূমপানে কীভাবে এত আসক্ত হলো, এটা তারও অজানা। তিনি বলেন, ‘যখন সে সিগারেট চায়, তখন আমি তাকে না বলতে পারি না। আমি নিজে একজন ধূমপায়ী। তারপরও আমি সবসময় ধূমপান করি না। আমি শুধু কাজের সময় ধূমপান করি।’
শিশুটির পিতা-মাতা জানিয়েছেন, তারা শিশুকে এ অবস্থা থেকে ফেরাতে চান। তারা এ বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১০ সালে আলদি রিজাল নামে এক শিশুর ধূমপানে তীব্র আসক্তির কথা জানা যায়। তার প্রতিদিন লাগত দুই প্যাকেট সিগারেট। র‌্যাপির সিগারেট আসক্তি তাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
উল্লখ্য, ইন্দোনেশিয়া ওইসব দেশের মধ্যে অন্যতম, যে দেশের জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ধূমপানে আসক্ত। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় শিশু ধূমপায়ীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশটির শতকরা নয়ভাগ নাবালক নিয়মিত ধূমপান করে থাকে।

Related Post