সদ্য প্রয়াত বাংলাদেশের কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। তার অকাল মৃত্যু তে বাংলাদেশের সঙ্গীত ভুবনে নেমে আসে শোকের ছায়া। সঙ্গীত অঙ্গন থেকে শুরু করে দেশের কোটি শ্রোতাকে কাঁদিয়ে রূপালি গিটার ছেড়ে শূন্য হাতে উপারে চলে গিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর দশ দিন পর তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গতকাল (২৮ অক্টোবর) বাদ মাগরিব বড় মগবাজারের কাজী অফিস লেনের বায়তুল কোরআন জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, এলআরবি ব্যান্ডের সদস্য, এলাকাবাসীসহ আরও উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, এস আই টুটুল, মেহেরিন, হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল ও অভিনেতা-মডেল নোবেল।

আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ আইয়ুব বলেন, সবার কাছে একটাই অনুরোধ, আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। যদি ভুল করে কখনো কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে দয়া করে তাকে মাফ করে দিবেন। তার গানের মাধ্যমে তাকে ভালোবেসেছেন, তার গানের মাধ্যমেই তাকে সারাজীবন মনে রাখবেন।দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে শিল্পী আসিফ আকবর বলেন, আমি বাচ্চু ভাইয়ের সাথে অনেক কাজ করেছি। আমরা একসাথে অনেক শো করেছি। আমার বাসা আর তার বাসা পাশাপাশি। আসা-যাওয়ার পথে আমাদের দেখা হতো। মানুষ হিসেবে তিনি অসাধারণ ছিলেন। বাংলাদেশের সঙ্গীতের জন্য আইয়ুব বাচ্চু কী ছিলেন,তা তিনি চলে যাওয়ার পর ভালোভাবে বুঝতে পারছি। আমরা চাইবো দেশবাসী সবসময় তার গান শোনে, তার গান গেয়ে তাকে জীবিত রাখবে।

এস আই টুটুল বলেন, অনেক ছোটবেলা থেকে আমি তাকে চিনি। আমার একজন জন্মদাতা বাবা আছেন যিনি আমাকে এই পৃথিবীতে এনেছেন। কিন্ত আমার আরেকজন বাবা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তার হাত ধরেই আমার বাংলাদেশের মিউজিকে আমার জন্ম। আমি মানুষ আইয়ুব বাচ্চুকে বেশি শ্রদ্ধা করি। মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, মাকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, আমি তার কাছ থেকে শিখেছি। গত ১৮ অক্টোবর নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। পরে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের তার মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

Related Post