যানজটে আটকা পড়ে সময়মত বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে না পারায় ফ্লাইট মিস করেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সনি সেতিয়ান। এতেই প্রাণ বেঁচে যায় তার।
যদিও তার ছয় সহকর্মী বন্ধু এতটা সৌভাগ্যবান ছিলেন না। সোমবার জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হওয়া লায়ন এয়ারের ফ্লাইট জেটি৬১০’র দুর্ভাগা আরোহী ছিলেন তারা।

তিনি এবং তার বন্ধুরা প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত জেটি৬১০ ফ্লাইটে চড়তেন বলে জানান সনি। তিনি বলেন, “আমি ঠিক জানি না আজ কেন এত যানজট ছিল। আমি সাধারণত ভোররাত ৩টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে যাই। কিন্তু আজ (সোমবার) পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৬টা ২০ বেজে যায় এবং আমি ফ্লাইট মিস করি।”
সোমবার স্থানীয় সময় ৬টা ২০ মিনিটে (জিএমটি রোববার ২৩:৩০) জাকার্তা থেকে সুমাত্রার পাংকাল পিনাং শহরে যাওয়ার জন্য উড্ডয়নের ১৩ মিনিটের মাথায় জেটি-৬১০ এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় উড়োজাহাজটি জাভা সাগরের উপর যেখানে অবস্থান করছিল তার ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে পানিতে সেটির ধ্বংসাবশেষ ভাসতে দেখা যায়।
উড়োজাহাজটিতে দুই পাইলট এবং ছয় কেবিন ত্রুসহ মোট ১৮৯ জন আরোহী ছিলেন। তাদের কেউ বেঁচে নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০ কর্মকর্তা ওই উড়োজাহাজে ছিলেন।
উদ্ধারকর্মীরা এরই মধ্যে কয়েকটি মৃতদেহ এবং আরোহীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করেছে। উদ্ধার পাওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে ছোট্ট একজোড়া জুতাও রয়েছে।
সনি বলেন, উড়োজাহজটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর শোনার পর তিনি চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলেন। কারণ, তার ছয় সহকর্মীসহ বহু মানুষ সেটিতে ছিল।
পশ্চিম জাভার বানডুংয়ের বাসিন্দা সনি জেটি৬১০ ফ্লাইটটি মিস করার পর অন্য একটি ফ্লাইটে করে পাংকাল পিনাং শহরে যান। যেখানে পৌঁছানোর পর তিনি দুর্ঘটনার খবর পান বলে জানায় এনডিটিভি।
তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার পরিবারকে ফোন করি। আমার পরিবার শোকাহত হয়ে পড়েছিল, মা কাঁদছিলেন। আমি তাদের জানাই আমি নিরাপদ আছি। আমাকে এজন্য কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।”
সূত্রঃ bangla.bdnews24.com

Related Post