আসুন আমাদের স্রষ্টার কাছ থেকেই জেনে নিই মানুষের মৃত্যু পরবর্তী জীবন কেমন ? আল্লাহতায়ালা বলেন, “বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীর জন্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের, যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তাতে তারা থাকবে চিরকাল এবং চিরস্থায়ী উত্তম বাস গৃহের; আর সবচেয়ে বড় হল আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি। এটাই হল বিরাট সাফল্য।” [সুরাহ তাওবাহ(৯:৭২)]
“যেখানে (জান্নাতে) তারা (বিশ্বাসীরা) চিরদিন থাকবে।” [সুরাহ তাওবাহ(৯:২০)] “তারা (আল্লাহভীরুরা) তাতে (জান্নাতে) থাকবে চিরকাল।”
[সুরাহ ইমরান(৩:১৯৮)] “তারা (বিশ্বাসীরা) তাতে (জান্নাতে) চিরকাল চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।” [সুরাহ নিসা(৪:১২২)] “তারা (বিশ্বাসীরা) সেখানে (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হবে।” [সুরাহ হূদ(১১:২৩)] “সেখানে তারা তাদের প্রতিপালকের ইচ্ছায় চিরকাল থাকবে। [সুরাহ ইব্রাহিম(১৪:২৩)]
“সেদিন জান্নাতীরা চিরস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে উত্তম আর বিশ্রামস্থল হিসাবে উৎকৃষ্ট অবস্থানে থাকবে।”
[সুরাহ ফুরকান(২৫:২৪)]
“তারা (আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থীগণ) তার (জান্নাতের) চিরস্থায়ী অধিবাসী।” [সুরাহ ইমরান(৩:১৩৬)] “যারা অস্বীকার করে, আল্লাহ্‌র কাছে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কখনও কোন কাজে আসবে না এবং তারা হচ্ছে আগুনের অধিবাসী, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।”
[সুরাহ ইমরান(৩:১১৬)] “তারা (অবিশ্বাসীরা) ওতেই থাকবে চিরকাল, তাদের শাস্তি কমানও হবে না এবং তাদের বিরামও দেওয়া হবে না।”
[সুরাহ ইমরান(৩:৮৮)]
“তারা (আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থীগণ) তার (জান্নাতের) চিরস্থায়ী অধিবাসী।” [সুরাহ ইমরান(৩:১৩৬)] “যারা অস্বীকার করে, আল্লাহ্‌র কাছে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কখনও কোন কাজে আসবে না এবং তারা হচ্ছে আগুনের অধিবাসী, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।”
[সুরাহ ইমরান(৩:১১৬)] “তারা (অবিশ্বাসীরা) ওতেই থাকবে চিরকাল, তাদের শাস্তি কমানও হবে না এবং তাদের বিরামও দেওয়া হবে না।”
[সুরাহ ইমরান(৩:৮৮)]
“আর যারা অবিশ্বাস করবে এবং আমার নিদর্শন গুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই নরকের অধিবাসী, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।” [সুরাহ বাকারাহ(২:৩৯)] “আর এরা অগ্নিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” [সুরাহ বাকারাহ(২:২১৭)] তাহলে মৃত্যু পরবর্তী জীবন হল-চিরন্তন,চিরস্থায়ী,অসীম, যে জীবনের কোন শেষই নাই; যেখানে মানুষ হবে অমর-স্বর্গে হোক বা নরকে। তাহলে এখন আপনিই চিন্তা করে দেখেন কোথায় আপনি সুখ-শান্তি-আনন্দ পেতে চান – একদিনের ন্যায় ছোট্ট এই দুনিয়ার জীবনে, নাকি সেই চিরন্তন-চিরস্থায়ী-না শেষ হওয়া জীবনে ?
ধরেন আপনি এক সপ্তাহ পরে একটা বাড়ি চিরকালের মতো ছেড়ে অন্য একটা বাড়িতে বাকি জীবনটা কাটাতে চলেছেন। এখন আপনি কোন বাড়িটা সাজিয়ে-গুছিয়ে সুন্দর করে রাখতে চাইবেন ? নিশ্চয়ই নতুন বাড়িটা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলেও আমরা বেশীর ভাগই এর বিপরীতটাই করে চলেছি- আমরা সেই সিম কার্ড রিচার্জ করতে ব্যস্ত যার ভ্যালিডিটি কালকেই শেষ হতে চলেছে; আমরা সেই বাড়িটি সাজাতে ব্যস্ত
যেটা কালকেই ভেঙ্গে ফেলা হবে;
আমরা বালির বাঁধ তৈরি করে জল আটকাতে চেষ্টা করছি; আমরা জল ভেবে মরীচিকার দিকেই ছুটে চলেছি; আমরা সূর্যালোকে
জলের আলপনা আঁকছি; আমরা সুধা ভেবে বিষকেই পান করে চলেছি। এ জীবন শেষ হবেই হবে, মরণ সেতো নিশ্চিত আসবে; কিন্তু তবুও আমরা এ জীবন নিয়েই ব্যস্ত, এ জীবনটাকেই সুন্দর করে সাজাতে চাই, এ জীবন নিয়েই কত স্বপ্ন আমরা বেঁধে যায়, এ জীবনেই মোরা সুখ-আনন্দ পেতে চাই, এ জীবনেই মোরা কিছু করে দেখাতে চাই, এ জীবনেই মোরা সুখ আর খ্যাতি চাই, জীবন নিয়েই চাহিদার কোন শেষ নাই।
আর এই জীবনের ফাঁদে পড়ে আমরা ভুলে যায় পরবর্তী সেই না শেষ হওয়া, চিরন্তন-চিরস্থায়ী জীবনের কথা। সেই না শেষ হওয়া চিরন্তন জীবন আবার দুই রকম- ১) জান্নাত বা স্বর্গের জীবন, যেখানে সুখের কোন সীমানা নাই, যেখানে ইচ্ছার কোন সীমা নাই, যেখানে শান্তির কোন শেষ নাই এবং ২) জাহান্নাম বা নরকের জীবন, যেখানে দুঃখের কোন সীমানা নাই, যেখানে ইচ্ছার কোন দাম নাই, খানে অশান্তির কোন শেষ নাই।
আল্লাহতায়ালা বলেন, “প্রতিটি জীব মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেওয়া হবে। যে ব্যক্তিকে নরকের আগুন থেকে রক্ষা করা হল এবং স্বর্গে দাখিল করানো হল, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফল হয়ে গেল, কেননা “পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।” [সুরাহ ইমরান(৩:১৮৫)]
রসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আখেরাতের তুলনায় দুনিয়া হলো এতটুকু, যেমন তোমাদের কেউ তার একটি আঙ্গুল
সমুদ্রের জলে ডুবিয়ে তা তুলে আনলো; সে লক্ষ্য করুক তার আঙ্গুল কতটুকু জল নিয়ে ফিরেছে।” [মুসলিম-২৮৫৮; তিরমিযী-২৩২৩; আহমাদ-১৭৫৪৭]পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়- একদিন সবই তো ফেলে চলে যেতে হবে। এই ছোট্ট পার্থিব জীবনের মোহে পড়ে
অসীম জীবনের সাফল্যকে জলাঞ্জলি দেওয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ কখনই নয়।
মানুষ সবথেকে বেশী বুদ্ধিমান প্রাণী বলে পরিচিত। গরু,ছাগল,ভেড়া ইত্যাদি সকল পশুই খায়-দায়, এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়- আর এভাবেই জীবন অতিবাহিত করে। মানুষ তখনই বেশী বুদ্ধিমান বলে বিবেচিত হতে পারে, যখন তার চালচলন চিন্তা-ভাবনা পশুর থেকে আলাদা ও উন্নতমানের হবে। গরু,ছাগল,ভেড়া পারেনা চিন্তা-ভাবনা করতে, তারা জানেনা পরকাল কী জিনিস। কেবল মানুষই পারে চিন্তা-ভাবনা করতে
এবং পরকালের সত্যতা অনুধাবন করতে।

Related Post

Spread the love
  • 217
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    217
    Shares