মেয়েটা কালো, স্মার্ট, পর্দাহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়, গান শুনে। মা হারা, ঘরে সৎমা। ভার্সিটিতে আসার পর আল্লাহ তাআলার রাহমাতে দ্বীনিবোনদের সাহচর্যে মেয়েটা একবারে সুন্নাতের রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে ওঠে..

খিদমাত, ইবাদাত, তাহাজ্জুদ, চোখে সুরমা, হাতে মেহেদী, হাতে পায়ে মোজাসহ বোরকা পড়া, ক্লাসের পড়ার চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে কুরআন পড়া, শেখা সবি আমলে নিয়ে আসে। কিন্তু কালো বলে দ্বীনদার ছেলেরাও বিয়েতে রাজি হয় না। তার বাবা বলে,তুই বড় হয়েছিস কাউকে পছন্দ কর,আমি বিয়ে দিয়ে দেই..
কিন্তু প্রেম করা কি সম্ভব ? সে আ’মাল করতে থাকে, দিন যায়, বিয়ে হয় না। পড়া প্রায় শেষ,চাকরিও করবে না.. চিন্তায় প্রায় অসুস্থই হয়ে পড়ে। আমাল আর তাহাজ্জুদের আবেগময় দুআ চলতেই থাকে। শেষ পর্যন্ত তার এমন একটা দ্বীনদার সিভিল ইন্জিনিয়ার ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে, যে কিনা প্রতিজ্ঞা করেছিল একটা মেয়েকেই পাত্রী দেখবে আর তাকেই বিয়ে করবে। পুরা সুন্নাতি বিয়ে,বিয়ের সময়ও কোন আমল ছাড়েনি ছেলেটা। বোনটারও সুন্নাতি জযবা দেখলে চোখে পানি চলে আসতে চায় ! এই ছেলেই আপুর উপযুক্ত,ঐ সুন্দরী খোঁজা চোখগুলো যে বড় বেমানান! তাওবা ও আমল আপুর কালো হওয়া কিংবা পিছনের ভুলে ভরা জীবন এখনকার পবিত্র জীবনে বাধা হতে পারেনি। এমন ঈমানদার স্বামী কয়টা সুন্দরী মেয়ে পেয়েছে বলো??
একটা মেয়েকেই পাত্রী দেখবে,ওকেই বিয়ে করবে! একটি বাক্য.. কিন্তু ভেবে কি দেখেছো তাঁর ঈমানের লেবেল? সুবহানাল্লাহ! তার মানে সে কোন মেয়েকেই দেখে না, এই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বিয়ের জন্যও একটার বেশি মেয়ে দেখবে না, এটাই ছেলেটার শপথ। নিজেকে পাপ থেকে বিরত রাখতে রাখতে ঈমানের মিষ্টতায় পৌঁছে গেছে…
ঐদিকে বোনটা সুন্দরী খোঁজা নষ্ট চোখগুলোর কথায় কস্টে কেঁদে চলছিল, যেন কালো হওয়াটা তারই অপরাধ! কালো মেয়েটার এই গ্লানিবোধের মতই বয়স বেশির অপরাধে ভুগছে মেডিকেল, ভার্সিটি, মাষ্টার্স পাশ দ্বীনিবোনগুলো! যেসব বোন পর্দাহীনভাবে চাকুরি করছে তাদের কিন্তু সমস্যা না। চাকরির লোভে দুনিয়াদার অনেক ছেলেরাই তাদের বিয়ে করছে, প্রেমের লোভে সমবয়সী বিয়ে করছে।
এদিক থেকে পেছনে আছে দ্বীনিভাইয়েরা, চাকরিজীবি মেয়ে যেহেতু তারা বিয়ে করবে না তাহলে আর শিক্ষিত বেশী বয়সের মেয়ে কেন বিয়ে করবে? তারা চায় একটা টুকটুকে সুন্দরী ছোট মেয়ে!
রূপের লাবণ্যে বিমোহিত এসব ভাইদের কি একবারও মনে পড়ে না এসব বোনদের কথা? যারা সংগ্রামী জীবন আর ফিতনা জড়ানো পরিবেশে নফসকে চাপা দিয়ে নিজেকে পবিত্র রেখে, দুঃখ কস্টের আগুনে পুড়ে খাঁটি ঈমানের লাবণ্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে!

তবে কি ভাইদের কাছে ঈমানের চেয়ে রূপের লাবণ্য বেশি হয়ে গেল? তাহলে তো বিশ্ব সুন্দরীরাই দামি অথচ আমার মালিকের কাছে বাহ্যিক রূপ দামহীন!
লিখেছেন – সুমাঈয়া সা’আদ [Sumaiya Sadd]

Related Post

Spread the love
  • 318
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    318
    Shares