ক্রিকেট তাকে দিয়েছিল পরিচিতি। নিয়ে গিয়েছিল বিশ্ব দরবারে। সেই ক্রিকেটকে এবার চিরতরে গুডবাই বলছেন রাজিন। ২০০৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেই। নিয়মিত খেলে আসছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেট। এবার সেখান থেকেও বিদায় নেওয়ার পালা। ক্রিকেটে প্রায় ১৮ বছরেরও বেশি সময় দেওয়া রাজিন প্রথম শ্রেণির আরেকটি ম্যাচ খেলে ব্যাট-প্যাড উঠিয়ে রাখবেন। নিজের অবসরের ঘোষণা দিয়ে রাজিন কাঁদলেন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে, ‘আমার শেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি সোমবার। আপনাদের জন্য আমার ক্যারিয়ার এখানে এসেছে। আমি ক্রিকেট ছেড়ে কোচিং করানো শুরু করেছি। একটা একাডেমিও আছে। লেভেল টু কমপ্লিট করা হয়েছে। শিগগিরর লেভেল থ্রি করা শুরু করব।’ শেষবেলায় বিসিবি থেকেও সম্মাননা পেলেন রাজিন। সিলেট শহরে তার ক্যারিয়ার শুরু। ওই সময়ে সিলেটে ছিল না কোনো আন্তর্জাতিক ভেন্যু। আজ বাংলাদেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে নাম লেখাল সিলেট। কৃতি সন্তান হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন রাজিন, এনামুল হক জুনিয়র।

বাংলাদেশের হয়ে খেলা তার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। সেরা মুহূর্ত শোয়েব আখতারের বিপক্ষে সেই বীরত্বগাঁথা ব্যাটিং। তাইতো ওই ইনিংসের কথা কখনো ভুলতে পারেন না ৩৪ বছর বয়সি রাজিন। ‘শোয়েব আখতার তখন আমাদের বিপক্ষে খেলবে, সেটা তো ভাবতেই ভালো লাগছিল। আমি শোয়েব আখতারের বল খেলব, সেটা একটা স্বপ্ন ছিল। আমার এখনো মনে আছে শোয়েব আখতার যে বলটি আমাকে প্রথমে করেছিল, ইয়র্কার মেরেছিল লেগ স্টাম্পের ওপরে। আপিল করছিল এলবিডব্লিউয়ের জন্য, কিন্তু আম্পায়ার দেননি। সত্যি কথা বলতে ওই বলটি আমি দেখিনি। অনেক জোরে বল করেছিল। ও আমাকে বাজে গালি দিয়েছিল। আমি ওটা এখনো ভুলিনি। ওই সময়ে তো ওরা আবার বল ‘ডক্টরিং’ করত।

বল অনেক রিভার্স সুইং করত। তারপর আমার সিনিয়র ক্রিকেটাররা বলেছিল, “তুই সাহস করে দেখ, পারবি”। পরের বল যখন ডিফেন্স করলাম তখন মনে হলো, ওর বল কিছুই না আসলে! উনি আসলে বাউন্স গায়ের ওপরে মেরে খুব ভয় দেখাত। আমি ওর বাউন্স বলগুলোর অপেক্ষা করতাম। সামনের বলগুলো ব্যাটের কাছেই দিত। রান করা যেত। ওকে কী করতে হবে এটা বোঝার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে একদিন দিন শেষে উনার এক বল আমার হাতে লেগেছিল। অনেক দিন আমার ব্যথা ছিল। হাতে রক্ত জমাট হয়ে কালো হয়ে ছিল। পা কালো হয়ে গিয়েছিল একটা বলে। শরীরের ওপরে বল নিতাম কিন্তু উইকেট দিব না, সেটা চিন্তা করেই রেখেছিলাম’- বলেন রাজিন।

Related Post