বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্রিকেট পাড়া সরগম বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে। এই আলোচনার পিছে বেশি রশদ জুগিয়েছে ক্রিকেট থেকে অবসর না নেওয়ার আগেই মাশরাফির রাজনীতিতে নামা নিয়ে। তবে অনেকেই জানতে চেয়েছেন এবিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিধিনিষেধের কথা। সেটাই এবার খোলসা করেছেন বিসিবির মুখপাত্র জালাল ইউনু কানাঘুষা ছিল আগেই। রাজনীতিতে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই সদস্য। নাম দুটোও ছিলো খোলাখুলি। তবে শেষ অব্ধি সাকিব সরে দাঁড়ালেও আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য বর্তমান সরকারদলীয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনের জন্য নিজ নির্বাচনী এলাকা নড়াইল-২ আসনের নমিনেশন পত্র কিনেছেন মাশরাফি মর্তুজা।

এর পর থেকে এদেশের ক্রিকেট সমর্থক গোষ্ঠী হয়ে গেছে দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ স্বাগত জানাচ্ছেন প্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফিকে, কেউবা দিচ্ছেন দুয়ো। বলছেন অবসরের পরেই তিনি নাম লেখাতে পারতেন রাজনীতিতে। তবে এনিয়ে এখনো মুখ খোলেননি খোদ মাশরাফি। জানিয়েছেন এবিষয়ে বিষদ বলবেন পরে। তবে আওয়ামী লীগের প্রেস উইং জানিয়েছে যে, নিজ জেলা নড়াইল-২ আসনে প্রার্থীতার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর শহরের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানিয়েছেন মাশরাফি।

পেশাদার খেলা চালিয়ে যাওয়া অবস্থাতেই সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার উদাহরণ ক্রিকেটারদের মধ্যে এবারই নতুন কিছু নয়। এর আগে শ্রীলঙ্কার সাবেক কিংবদন্তি সনাথ জয়সুরিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর না নিয়েই শ্রীলঙ্কার ২০১০ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ওই নির্বাচনে বিজয়ীও হয়েছিলেন। তবে এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জন্য হচ্ছে অনেক কথা। অনেকেই আবার প্রশ্ন তুলছেন বিসিবির নিরব ভূমিকা নিয়েও। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে অধিনায়ক মাশরাফির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিসিবির কোন বিধিনিষেধ আছে কী? বিসিবির বাংলাকে এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বিসিবির মুখপাত্র জালাল ইউনুস। তনি বলেন, ‘মাশরাফি তার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর তিনি খেলা থেকে রিটায়ার করবেন। এটা কোন নিয়ম নাই যে কোন ক্রিকেটার রাজনীতি করলে খেলতে পারবেন না।’

এই বিষয়ে ক্রিকেট বোর্ডে কোন বিধিনিষেধ আছে কনা জানাতে যেয়ে জালাল ইউনুছস আরও বলেন, ‘এটা যার যার সাংবিধানিক অধিকার। সে (মাশরাফি) যদি মনে করেন যে, রাজনীতির পাশাপাশি খেলাতেও পারফর্ম করতে পারবেন, তাহলে আমাদের কোন নিয়ম নাই যে আমরা তাদেরকে কোন বাঁধা দিতে পারবো। তাছাড়া মাশরাফি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এক মাস দেড় মাস ব্যস্ত থাকবে। বাকিটা সে ম্যানেজ করে নেবে।’

Related Post