আসরের নামাজের কয়েক মিনিট পর কতগুলো যুবক চিৎকার করে উঠল, কে কোথায় আছ, তাড়াতাড়ি এসো, এক ব্যক্তিকে রেল কেঁটে চলে গেছে! ঘঠনাস্থলের আশেপাশের লোকজন সকলেই এসে উপস্থিত হল।রেলেকাঁটা ব্যক্তিকে ঘিরে সকলে জটলা বেঁধে দাঁড়াল। দেখা গেল হতভাগ্য ব্যক্তিটি একজন যুবক। ১৯ বছর বয়সের এক টগবগে যুবক! রেলের চাকা যুবকের দেহকে দু’টুকরো করে ফেলেছে!দেহের নিম্নাংশ রেলের চাকার সাথে মারাত্নক ঘর্ষণের ফলে কোথাও যেন উড়ে গেছে! উপরাংশ এখনও জীবিত, তড়পাচ্ছে আর লাফাচ্ছে! লোকেরা দেখতে পেল যুবকের বুকের ভেতর এখনও রূহ বিদ্যমান! হৃদপিন্ড এখনও শ্বাস-প্রশ্বাস সঞ্চালণ করছে! যুবকটি এখনও জীবিত!!! উপস্থিত লোকদের একজন এগিয়ে আসল। মুমূর্ষু যুবকের মাথা কোলে উঠিয়ে নিল। কানের কাছে মুখ নিয়ে কালেমার তালক্বীন দিতে শুরু করল। বলতে লাগল: বল হে যুবক, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ! বল, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ! কালেমার আওয়াজ শুনতেই যুবক আগের চেয়ে আরও বেশি কেঁপে উঠল! যুবক কাঁপতে থাকল!

শরীর ঝাড়া দিতে থাকল! অবশেষে উচ্চারণ করেই ফেলল: আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ! অতঃপর যুবকের দেহ স্থির হয়ে গেল। হৃদপিন্ড শান্ত হয়ে গেল। রূহ মওলার ডাকে সাড়া দিয়ে দেহ ত্যাগ করে চলে গেল। যুবক মারা গেল। কালেমার উপরই মারা গেল! লোকেরা হাঁক ছুড়ল, একটা চাদর নিয়ে এসো! দেহের উপরাংশ চাদরে উঠাব।বাকি অংশ খুঁজে উপস্থিত করব। রাত্রি ছিল বিদঘুটে অন্ধকার।কতগুলো নওজোয়ান তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের টর্চ অন করল। যুবকের দেহের উপরাংশ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যা পাওয়া গেল, তা খুঁজে চাদরে বহন করে রেললাইনের পার্শ্বস্থ একটি কফিখানায় নিয়ে আসা হল। লোকেরা যুবকের দেহে তল্লাশি চালাল, নাম-ঠিকানা কোনকিছু পাওয়া যায় কি না। একজন ব্যক্তি যুবকের ডান হাতটা ধরল, অমনি চিৎকার করে উঠল- ইয়া আল্লাহ!এই যুবকটা খৃষ্টান!!! তার হাতে ক্রুশ!!! লোকেরা লাশটি উঠিয়ে নিল।তারা দিশেহারা হয়ে গেল, এখন কি তারা লাশটিকে ফেলে চলে যাবে? অথচ যুবকটি কালেমার উপর মৃত্যুবরণ করেছে। নাকি তার পরিবার-পরিজনের কাছে পৌঁছিয়ে দিবে, যাতে খৃষ্টান গোরস্থানে দাফন করা যায়?! উপস্থিত লোকেরা যুবকের লাশকে নিশ্চুপ বহন করে নিয়ে যাচ্ছে আর নিঃশব্দে অশ্রুবিসর্জন দিচ্ছে! হঠাত পথিমধ্যে গ্রামের প্রথম রাস্তার মুখে যুবকের পিতার দেখা মিলল! কারণ, ঘঠনাস্থলের পার্শ্ববর্তী গ্রামেই যুবকের ঠিকানা। যুবকটি মসজিদের সন্নিকটেই মারা গেছে! মসজিদের আশপাশের সকলেই মুসলিম। যুবকের পিতা কান্নারত অবস্থায় মাথা ঝুকিয়ে নিয়ে বলল, আমি যা বলব, তাতে আপনারা যারপরনাই আশ্চর্য হয়ে যাবেন! আমি আপনাদেরকে লজ্জাবনত হয়ে বলছি, আমার এই ছেলে কুরআনের তেলাওয়াত শুনার বড্ড পাগল ছিল! হ্যাঁ,সে একজন খৃষ্টান। তবুও সে মুসলিমদের কুরআন শুনতে পছন্দ করত! আমি তার কামরায় ঢুকতাম। ঢুকে তাকে দেখতে পেতাম সে কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে কিছু শুনছে। আমি জিজ্ঞেস করতাম: বাছা! কী শুনছ?

সে বলত:আব্বু, গান শুনছি! তবুও আমি কান থেকে ইয়ারফোন সরিয়ে নিতাম। দেখতাম সে কুরআনের তেলাওয়াত শুনছে! আমি তাকে নিষেধ করতাম। ধমক দিতাম। শক্তাশক্তি করতাম। বলতাম: তুমি যদি কুরআন শুনা বন্ধ না কর, তাহলে আমি তোমাকে মেরে ফেলব! সে উত্তরে বলত: আব্বু, আপনি কখনও তা পারবেননা!কখনও আমায় হত্যা করতে পারবেননা! আমাকে বিরত রাখতে পারবেননা! কুরআন থেকে আমাকে দূরে রাখতে পারবেননা! উপস্থিত লোকেরা কান্নাশ্রু মিশ্রিত আনন্দে একেঅপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করল! তারা যুবকের ব্যথিত-বিষন্ন পিতাকে বলল: আপনার ছেলে কালেমার উপর মৃত্যুবরণ করেছে! নিজ মুখে শাহাদাতাইন উচ্চারণ করে মৃত্যুবরণ করেছে! সে শাহাদাতাইন উচ্চারণ করেছে অর্ধদেহে! ব্যথায় কাতর যুবকের পিতা বলল: আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি, যা আমার ছেলে সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। অত:পর সে উচ্চারণ করল- আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ! ঐ রাত্রে যুবকের বাসর রাত ছিল। দিনেই সে বিয়ে করেছিল। বাসর রাতের পরিবর্তে তার জানাযার নামায পড়া হল! মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হল। ঘঠনাটি বাস্তব সত্য। ঘঠনাটি শাইখ মুহাম্মাদ আস-সাওয়ী তার কোন এক বয়ানে বলেছেন। তিনি ঘঠনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
সূত্র- আরবের সাড়াজাগানোফেইসবুক পেইজ
# ﻛﻞ _ ﻳﻮﻡ _ ﻗﺼﺔ _ ﺗﻬﺰ _ﺍﻟﻌﺎﻟﻢ হতে অনূদিত। কুরআনের প্রতি মহব্বতের কারণে আল্লাহ খুশি হয়ে দুই ব্যাক্তিকে ঈমান দিয়ে দিলেন। আল্লাহু আকবার! সুবহানাল্লাহি ওবিহামদিহী! কুরআনগুলো আজ আমাদের ঘরে বড় অবহেলিত! প্রিয় ভাই-বোন আমরা কি দৈনিক অল্প কিছু সময় কুরআনের পরশে ব্যয় করতে পারি না? আসুন ২৪ ঘন্টায় অন্ততপক্ষে আধাঘন্টা হলেও আমরা কুরআনের জন্য ব্যয় করি। আল্লাহ তাওফিক দিন।আমিন

Related Post

Spread the love
  • 1.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.6K
    Shares