জুমার দিনে ছোট্ট এই দোয়াটি পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে!

মহান আল্লাহ মানুষকে ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষ সৃষ্টি করে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি মানুষ ও জিন জাতিকে আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ কিন্তু মানুষ প্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনায় নানা গুনাহ করে থাকে। সে গুনাহ মাফের নানা পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে কোরআন-হাদিসে। এ সকল আমল নির্দিষ্ট দিন ও সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

হাদিসে জুমার দিনের ফজিলতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল রয়েছে। যা অনেক সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে হজরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত: রাসূল পাক (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর না উঠে ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরীফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে। দোয়াটি হল- ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মিইয়্যি, ওয়ালা আলি ওয়া সাল্লিাম তাসলিমা’ অর্থ : হে আল্লাহ তুমি শান্তি ও রহমত বর্ষণ কর উম্মী নবী (যাকে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়নি) মুহাম্মদ সা. এর ওপর ও তার পরিবার পরিবর্গের ওপর। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করল, অতঃপর জুমআহ পড়তে এল এবং মনোযোগ সহকারে নীরব থেকে খুতবাহ শুনল, সে ব্যক্তির এই জুমআহ ও (আগামী) জুমআর মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছোট) পাপসমূহ মাফ করে দেয়া হল। আর যে ব্যক্তি (খুৎবাহ্ চলাকালীন সময়ে) কাঁকর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কর্ম করল।’’ (অর্থাৎ সে জুমআর সওয়াব বরবাদ করে দিল।) (মুসলিম , তিরমিজি) জুমার দিনের আরো কিছু আমলের মধ্যে রয়েছে * সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা: জুমার দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন আকাশতুল্য একটি নূর প্রকাশ পাবে। * বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা এবং বেশি বেশি যিকির করা মুস্তাহাব।

* জুমার রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ও জুমার দিনে নবী করিম (সা.) এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। এমনিতেই যে কোনো সময় একবার দুরুদ শরীফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা দরুদ শরীফ পাঠকারীকে দশটা রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য দশবার রহমতের দোয়া করেন। * জুমার নামাজের পূর্বে দুই খুতবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা। * সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের সাথে যিকির, তাসবীহ ও দুয়ায় লিপ্ত থাকা।

(Visited 13,014 times, 8 visits today)

Related Post

You may also like...