এ সমাজে বাস করা অবহেলিত শ্রেণীগুলির অন্যতম বোধ হয ভবঘুরে পাগল শ্রেণী…
তাদের সাথে সব রকমের ব্যবহার ই করা যায়- রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে দুটো বিস্কুট চাইলে তার গায়ে গরম জল ঢেলে দেওয়া যায়, পাগল হওয়ার অপরাধে তাকে ঢিল ছুড়ে মারা যায়, এধরনের অনেক কিছু ই করা যায়… এমন কি স্কুল ফিরতি বাচ্চা ছেলেটা যখন কৌতুহলবসত একটু এগিয়ে যায় তখন পেছন থেকে চিৎকার আসে, “বাবু- ওদিকে যেও না- ও পাগল ” আজ কলেজের রাস্তা দিয়ে ফেরার পথে হঠাৎ ই দাড়িয়ে গেলাম- দেখলাম- এক ভবঘুরে বৃদ্ধা (পাগল না বলে ‘ ভবঘুরে বৃদ্ধা’ ই বল্লাম তাঁকে সম্মান দেখানোর জন্য) একটা গোটা গা ঘা -এ ভরা কুকুর বাচ্চাকে পরম যত্নে বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন আর তার মাথায় হাত বুলাচ্ছেন! সম্ভবত নিজের খাবারেরই কিছু অংশ তিনি ওই অবলা পশুটার মুখে তুলে দিচ্ছেন… ভাবতে অবাক লাগে যেঃ সমাজে এখনও মানুষ নিজের জাত-ধর্ম নিয়ে বরাই করে, “ও হিন্দু তাই ওর হাতে খাবোনা” /”ও মুসলমান ওর বাড়ি গেলে জাত যাবে” এ ধরনের মত প্রকাশ করেন এবং নিজেকে একজন সুস্থ মানুষ হিসাবে দাবি করেন – সেই সকল মানুষের সুস্থতা নিয়ে সংশয় আমার থেকেই গেল… বরং , সুস্থ মনে হয় ঐ মানুষ টাকে যে জাত-ধর্ম তো দূরে থাক, একটা আর্ত ‘পশুকে’ কোলে তুলে নেওয়ার মানসিকতা রাখে… ঘড়ির দিকে খেযাল না করেই রাস্তায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে এসব কথাই ভাবছিলাম- ঠিক কতক্ষণ ওভাবে দাড়িয়ে ছিলাম তার হিসেব আমার কাছে নেই!! হঠাৎ- ই ঘোর ভাঁঙলো একটা চেনা গলার আওয়াজে-
“কিরে ‘পাগল’ – অমন করে দাড়িয়ে কী ভাবছিস”
#collected

Related Post