একজন সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা পিতার ক্রোমোজোমের (কোষের অভ্যন্তরে অতি ক্ষুদ্র দ্রব্য যা প্রতিটি কোষ তথা পুরো মানব দেহের বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে) ওপর নির্ভর করে। একজন সুস্থ মানুষের ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে – ৪৪ টি অটোসম এবং ২ টি সেক্স ক্রোমোজোম। এই দুটি সেক্স ক্রোমোজোম দিয়ে বোঝা যায় কোষটি স্ত্রী না পুরুষের। একজন সুস্থ্য পুরুষের ক্রোমোজোম ৪৪, xy এবং একজন সুস্থ্য নারীর ক্রোমোজোম ৪৪, xx। যখন ডিম্বাণু ও শুক্রাণু পরিপক্ব হয়ে নিষিক্তকরণের জন্য প্রস্তুত হয়, তখন প্রতিটি ডিম্বাণু ও শুক্রাণুতে এই ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়; এবং নিষিক্তকরণের পর আবার পূর্ণসংখ্যা প্রাপ্ত (৪৬ টি ) হয়। অর্থাৎ একজন মানব শিশুর শরীরে অর্ধেক ক্রোমোজোম আসে মায়ের কাছ থেকে এবং অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে, যাতে কিনা উভয় বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়। যদি ২২x শুক্রাণুর সাথে ২২x ডিম্বাণুর মিলন (২২x+২২x = ৪৪ xx ) হয় তাহলে সন্তানটি হবে মেয়ে। আর যদি ২২y শুক্রাণুর সাথে ২২x ডিম্বাণুর মিলন (২২y+২২x = ৪৪ xy ) হয় তাহলে সন্তানটি হবে ছেলে। যেহেতু বাবার শুক্রাণুতে xy ক্রোমোজোম থাকে তাই সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ভর করে বাবার থেকে আসা ক্রোমোজোমের উপর।

Related Post

Spread the love
  • 169
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    169
    Shares