আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মেঝেতে খেলায় মত্ত ভাই-বোন। সিলিংয়ে ঝুলছে বাবা-মায়ের নিথর দেহ। শুক্রবার রাতে এমনই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সোনারপুরের বৈষ্ণবপাড়া এলাকা। দুই সন্তানের সামনেই একসঙ্গে আত্মহত্যা করলেন দম্পতি। মৃতদের নাম তাপস নাইয়া ও প্রিয়াঙ্কা নাইয়া। তাপস বাবু পেশায় সত্‍ ২০১৩-তে প্রেম করে বিয়ে করেন তাপস ও প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের একটি ছেলে ও মেয়ে হয়। প্রতিবেশীরা জানান, তাঁদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত।স্থানীয় সূত্রে খবর,

শুক্রবার রাতেও দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। পরে তাঁদের ঝগড়া থেমে গেলে প্রতিবেশীরা ভাবেন দু’জনের মধ্যে সবকিছু মিটে গিয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, ঝগড়ার পরে আত্মহত্যা করে ওই দম্পতি। প্রতিবেশীরাই তাপস-প্রিয়াঙ্কাকে উদ্ধার করে সোনারপুর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিত্‍সকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করে। আপাতত প্রতিবেশীদের কাছেই রয়েছেন দুটি শিশু।এই ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলেছে দুই শিশুর মনে। প্রতিবেশীদের কোলেই বারবার চমকে উঠছে। এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। তাঁদেরর প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তি ও আর্থিক অনটনের জন্য আত্মঘাতী হয়েছেন দম্পতি।

ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘হঠাত্‍ করে ওদের ছেলের চিত্‍কার শুনে আমি সেখানে ছুটে যাই। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। তাই পিছনের জানলা দিয়ে দেখার চেষ্টা করি এবং ঘরের ভিতরে তাকাতেই আমি দেখি, সিলিং থেকে ঝুলছে তাপস ও প্রিয়াঙ্কা। ওরা দু’জনে পরস্পরের দিকে মুখ করে ঝুলছিল।সঙ্গে সঙ্গে আমি সেখানে অন্যদের ডেকে আনি এবং দরজা ভেঙে বাচ্চা দুটিকে উদ্ধার করি।’

Related Post

Spread the love
  • 889
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    889
    Shares