দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: গত একসপ্তাহ ধরে অসুস্থ অবস্থায় চন্দননগর হাসপাতালের কাছের একটি ক্লাবের মাঠে পড়ে শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন সত্তোরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। ফাঁকা মাঠের মধ্যে ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি। দেখেও, না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিলেন পথচারীরা। অবশেষে সেই বৃদ্ধকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন এলাকারই এক যুবক। ওই বৃদ্ধকে
হাসপাতালে ভরতি করে মানবিকতার নজির গড়লেন সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী।

জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধর বাড়ি হুগলির চাঁপদানিতে। মারধর করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে দুই ছেলে। এরপর থেকেই স্থানীয় ওরিয়েন্টাল স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠই হয়ে উঠেছিল তাঁর একমাত্র ঠাঁই। প্রচণ্ড শীতে সেখানেই কুঁকড়ে শুয়ে থাকতেন ওই বৃদ্ধ। কয়েকদিন ধরে এমন চরম অমানবিক দৃশ্য দেখে মন কেঁদে ওঠে ওই ক্লাবেরই সদস্য সৌম্যজিতের। বাবার বয়সি একজন মানুষকে পড়ে থাকতে দেখে নিজে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি তিনি। শনিবার সকালে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করে দেন তিনি। ব্যবস্থা করেন সুচিকিৎসার।

হুগলির মহসিন কলেজের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী, চন্দননগরের ধারাপাড়ার বাসিন্দা। সৌম্যজিতের এই মানবিক রূপ রীতিমতো গর্বিত করেছে এলাকার মানুষজনকে। নব প্রজন্মের মধ্যে যে এখনও মানবিকতা বেঁচে রয়েছে, সৌম্যজিৎ তার উদাহরণ বলে মনে করছেন তাঁরা। যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সৌম্যজিৎ। তিনি বলেন, “আমি এমন কোনও বড় কাজ করিনি। যেকোনও মানবিক মানুষ এমনই করবে। ওই স্থানে যদি আমার বাবা থাকত, তাহলেও আমি একই কাজ করতাম।” ক্লাবেরই এক সদস্য সদানন্দ মুখোপাধ্যায় বলেন, “কয়েকদিন ধরেই ওই বৃদ্ধ মাঠের ধারে পড়েছিলেন। তাঁর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে প্রথমে আমরা ওঁর জন্য চাদর-কম্বল ও খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে সৌম্যজিৎ ওঁকে হাসপাতালে ভরতি করে দেয়। ওর কাজে আমরা সত্যিই খুব গর্বিত।”

Related Post

Spread the love
  • 4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4K
    Shares