একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সরব প্রচারণা চোখে পড়ার মত। এবার বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে দেখা মিলছে ব্যতিক্রম চিত্র। ভোটারদের বাড়িতেই দুপুর ও রাতের খাবার খাচ্ছেন প্রার্থী। এই চিত্রটি গরিব ভোটারদের বাড়িতেই দেখা যাচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার হাটকড়ই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বিধবা বৃদ্ধাকে মা ডেকে সেখানেই রাতের খাবার খেয়ে ব্যতিক্রম আলোচনায় এসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডিস ব্যবসায়ী ও অভিনেতা আরশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। ‘সিংহ’ প্রতীক নিয়ে ভোটের প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন তিনি। প্রচারণায় গিয়ে ভোটারদের বাড়িতেই দুই বেলার খাবার পাচ্ছেন তিনি। গরিবের প্রার্থী হিসেবেও রীতিমত নাম উঠেছে ভোটারদের মুখে মুখে। হিরো আলম নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ভোটারদের ‘চা’ পর্যন্ত খাওয়াচ্ছেন না।

তবে ভোটাররাই নিজেদের খরচে হিরো আলমের প্রচারণা করছেন এবং তাকেই চা খাওয়াচ্ছেন। সিংহ প্রতীকের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী যেখানেই প্রচারণায় যাচ্ছেন, সেখানে একই কথা বলছেন ‘আমি গরিব ঘরের ছেলে, টাকা দিয়ে ভোট করতে আসিনি। আমি গরিব, গরিবরাই আমার সাথে প্রচারণায় রয়েছে। কেউ টাকার জন্য প্রচারণা করছে না, ভালবাসা থেকেই সহযোগিতা করছে সবাই।’ গরিবের দুঃখ গরিবরাই বোঝে। আপনারা (ভোটার) যদি টাকার বিনিময়ে কাউকে ভোট দেন, তাহলে সে-তো চোর হবেই। আপনারাই চোরের জন্ম দিচ্ছেন। অর্থের লোভ না করে ভালোবেসে ভোট দিন, নির্বাচিত হলে নিশ্চই উপকৃত হবেন। কথার সাথে কাজের প্রমাণ পাবেন। হিরো আলমের এই কথাগুলোই ভোটরদের হৃদয়ে আস্থার সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলার বীজরুল গ্রামের ভোটার রাসেল হোসেন, কৈগাড়ী গ্রামের আলমগীর, হাটকড়ই গ্রামের উত্তম কুমার, ভাটগ্রামের মাহফুজার ও বাদলাশন গ্রামের আব্দুল হান্নান সহ শত শত ভোটার।

তার এক সমর্থক জানান, গত শুক্রবার হাটকড়ই গ্রামের মৃত অনিল চন্দ্র লকাইয়ের স্ত্রী বিধবা বৃদ্ধা লতা রানীর বাড়িতে ‘সিংহ’ প্রতীকে ভোট চাইতে যান হিরো আলম। এ সময় বিধবা বৃদ্ধাকে সামনে পেয়েই ‘মা’ বলে ডাকেন তিনি। মা ডাক শুনেই ওই বৃদ্ধা বলে ওঠেন, ‘বেটা (হিরো আলম) তুই গরিব মায়ের ছোল। অনেক কষ্টে এতদুর আচ্চু। হামাক মা ডাকিচু, তোর কাচে হামার আর কিচু চাওয়ার নাই। হামি ভাত আন্দিচি বাপ। হামার হাতে দুই মুট ভাত খায়্যা যা। ভোটেত মেলা কষ্ট করা লাগে, খাওয়া দাওয়া ঠিক করে তারপর পচার কর। চিন্তে করিস ন্যা, ভগবান আচে বেটা।’ বিধবা ওই বৃদ্ধা মায়ের কথায় রাতের খাবার খেতে বসেন হিরো আলম। বৃদ্ধার ছেলে পলাশ চন্দ্রও খেতে বসে। আলোচিত স্বতন্ত্র সাংসদ প্রার্থী হিরো আলম একজন সাধারণ বৃদ্ধার বাড়িতে ভাত খাচ্ছেন, এই ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়ির উঠানে ভোটাররা ছুটে এসে ভিড় করেন। প্লেটে সাদা ভাত, সাথে ডাল পিয়াজু আর ভাজি। একজন এমপি প্রার্থী সাধারণ খাবার খাচ্ছেন গরিবের বাড়িতে। বিষয়টি নিয়ে ব্যতিক্রম আলোচনার জন্ম দিলেন হিরো আলম।

ছেলের পাশে এমপি প্রার্থীকে বসিয়ে সন্তানের মতোই খাবার দিয়েছেন ওই বৃদ্ধা নারী। তবে হিরো আলম যখন খাবার খাচ্ছিলেন, তখন বৃদ্ধা ওই নারীর দু-চোখে জল আসে। এটা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত ভোটাররাও। অবাক দৃষ্টিতে সকলেই দেখছিলেন এই চিত্র। ভোটের প্রচারণায় কয়েক দিন ধরেই ভোটারদের বাড়িতে হিরো আলমের খাবার খাওয়ার কথা জনমুখে চলছিল। এবার বাস্তব চিত্রটিরও দেখা মিলল। হাটকড়ই এলাকার হোমিও চিকিৎসক বরুন চক্রবর্তী ও বৃদ্ধ ভোটার পশুরাম চন্দ্র বলেন, চোখের সামনে দেখেও বিশ্বাসই হচ্ছিল না। একজন এমপি প্রার্থী এভাবে একজন সাধারণ গরিব ভোটারের বাড়িতে খাবার খাচ্ছে। এরকমই একজনকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা উচিত। আমরা সবাই চাই, প্রত্যেক পরিবারকে নিজের মনে করে পাশে থাকুক জনপ্রতিনিধিরা। আমরা তো টাকা চাই না। হিরো আলম নির্বাচিত হবে কি-না ভগবানই জানেন। সে আমাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিল। হিরো আলম বলেন, আমি গরিব মায়ের সন্তান। গরিবের ঘরের খাবারের চেয়ে আর বেশি কিছু চাওয়ার নেই। ভোটাররা ভালবেসে আমাকে খাওয়াচ্ছেন, আমিও খাচ্ছি। আমি মনে করি, ভালোবাসাই সব। ভোটের মাঠে জয় পরাজয় থাকবে কিন্তু আমি ভোটের আগেই যে ভালোবাসা পাচ্ছি, সেটা এমপি হবার চেয়েও অনেক বড় পাওয়া। বগুড়া-৪ আসনে হিরো আলম (সিংহ) পাশাপাশি সক্রিয় প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন মহাজোট মনোনীত বর্তমান সাংসদ একেএম রেজাউল করিম তানসেন (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেন (ধানের শীষ)।
বিডি২৪লাইভ

Related Post