যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ফুলকপি চাষিরা ফুলকপি নিয়ে আছেন মহাবিপদে। বাজারে আসা চাষিরা ফুলকপি এক ঝুড়ি একশ টাকা আর কেজি দরে দেড় টাকা দরে বিক্রি করে বাড়ি ফিরছেন। বুধবার সকালে সরেজমিনে চৌগাছা কাঁচাবাজারে ঘুরতে এসে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এ উপজেলার উৎপাদিত সবজি দেশ জুড়ে বেশ খ্যাতি রয়েছে। গত বছর থেকে চলতি শীত মৌসুমের সবজির চাষের ব্যাপকতা বেড়েছে। এখানে সপ্তাহে শুক্রবার, সোমবার ও বুধবার তিনদিন সবজির বাজার বসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি ব্যবসায়ীরা সবজি কিনতে আসেন। প্রতি সপ্তাহে একশ ট্রাক উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যাচ্ছে।

এ উপজেলায় এ বছর ফুলকপি ৪শ ৮০ হেক্টর, বেগুন ৭শ ৫৫ হেক্টর, বাঁধাকপি ৫শ ৭০ ও মুলা ৩শ ৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। সব মিলিয়ে এবছর উপজেলাতে ৩ হাজার ৮শ ৮০ হেক্টর জমিতে কৃষক সবজি চাষ হয়েছে। উপজেলার বিস্তৃর্ণ মাঠে শুধুই সবজি আর সবজি। শীত মৌসুম আসতে না আসতেই সবজির দাম হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ফুলকপি চাষিরা কপি নিয়ে আছেন মহাবিপদে। পাইকারী বাজারে কেজি মাত্র এক টাকা থেকে দেড় টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি একঝুড়ি ফুলকপি একশ টাকা থাবকো বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে খুচরা কাঁচা বাজারে ১ কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪/৫ টাকা। তাও কোন ক্রেতা নেই। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকের সবজি বিক্রি করে পুঁজি ঘরে উঠবে না। ফলে সবজি চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

বুধবার সকালে কাচা বাজারে সব ধরনের সবজির ব্যাপক সমারোহ ঘটেছে। কাঁচা বাজারে শুধু সবজি আর সবজি। বাজারে আসা কৃষকেরা ন্যায্য দাম না পেয়ে শেষমেষ পানির দরে বিক্রি করে বাড়ি ফিরছেন। কাঁচা মরিচ ১০ টাকা, বেগুন ৫ টাকা, সিম ৩ টাকা, পেঁপে ৬ টাকা, নতুন পিঁয়াজ ১০ টাকা, বরবটি ১০ টাকা, বাঁধাকপি ৪ থেকে ৫ টাকা, পটল ৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আর পালং শাক ৩ টাকা আটি, লাউ প্রতিটি ১০ থেকে ১২ টাকা, লাল শাক ৩ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। কাচা বাজারের সবজির আড়তদার মোস্তফা মল্লিক বলেন, আমার ব্যবসা জীবনে সবজির দাম এতো কম দেখিনি। এভাবে সবজির দাম থাকলে তাদের খরচের টাকা ঘরে উঠবে না। তিনি বলেন, এ বছর চাহিদার থেকে উৎপাদন বেশি হয়েছে তাই সবজির চাহিদা কম।

সবজি চাষি পৌরসভার কবির হোসেন বলেন, আমার ১ বিঘা কপি চাষ করতে এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। অনেক আশা নিয়ে কপি চাষ করেছিলাম। কিন্তু এখন সব আশা যেন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান বাজার দরে তার ক্ষেতের সমুদয় কপি বিক্রি করলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘরে আসবে। গত সপ্তাহে বেশ কপি আমি গরু ছাগলের খাওয়াছি। এই ক্ষতি কিভাবে তিনি কাটিয়ে উঠবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। মহেশপুর উপজেলার ইদরাকপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে সাইদুর রহমান বলেন,চলতি মৌসুমে ৫বিঘা বিঘা জমিতে ফুল কপির চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত ওই কৃষকের খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে কপি উঠার ভরা মৌসুম। বুধবার সকালে চৌগাছা কাচা বাজারে ১২ মণ ফুল কপি এনেছি। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর মাদারীপুর থেকে আসা কাচামাল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে আমার কপিগুলো জোর করেই দেড় টাকা কেজি দরে এমন ৬০ টাকা দামে বিক্রি করেছি। এতে আমার ভ্যান ও জন খরচ উঠেনি। সবজি চাষি কয়াপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনর ছেলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে ফুলকপি খরচ ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আজ বাজারে ঝুড়ি প্রতি কপি মাত্র একশত টাকা করে বিক্রি করেছি। আমার আনা ও তোলা খরচ উঠেনি।

উপজেলার সাদিপুর গ্রামের মহি উদ্দিনের ছেলে আব্দার হোসেন বলেন,আমি ২বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছি। আবাদ করতে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখনও খরচের টাকা উঠেনি। বুধবার সকালে ১১মণ সিম বাজারে এনেছি। কিন্তু কোন ক্রেতা নেই। শেষমেষ কয়েকজন খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ীর কাছে ৩ টাকা কেজি দামে বিক্রি করেছি। আমার শিম তোলা খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা আর ভ্যান খরচ ৩ শত টাকা হয়েছে। সব মিলায়ে আজ আমার খরচের টাকা হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচউদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে সবজির চাষ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সবজির দাম কিছুটা কম। এখন সবজির দাম একটু কমলেও এই রকম বেশি দিন থাকবে না। আশা করি খুব তাড়াতাড়িই সবজির দাম বাড়বে।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •