বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ আশ্রয় নিয়েছেন টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে। কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছেন রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা নারী গুল বানু বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে খুব ঠান্ডা লেগেছে। ছোট কম্বল আর কাঁথায় কোন কাজ হচ্ছে না। ঝুপড়ি ঘরগুলোর পলিথিনের ছাউনির ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানির মতো করে কুয়াশা পড়ছে। সব মিলিয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডায় মোটেই ভালো নেই রোহিঙ্গারা।’ তার পাশে বসেছিল নুর নাহার নামে আরেক বৃদ্ধ রোহিঙ্গা নারী। তিনি জানান, ‘দিনের বেলায় কুড়ানো লাকড়ির পরিত্যক্ত অংশ জ্বালিয়ে কোনোরকমে শীত থেকে বাঁচার উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে। শীতবস্ত্রের বদলে আগুনই এখানে শীত নিবারণের একমাত্র ভরসা।’

একইদিন টেকনাফের জাদিমুড়া এলাকায় খালি জায়গায় গড়ে উঠা আরেক রোহিঙ্গা শিবিরের ছলেমা খাতুনের জানান, ‘কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা খুব কষ্ট হচ্ছে। সর্দি-কাশির প্রভাবে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তিন বছরের মেয়ে সুমাইয়ার গায়েও গরম কাপড় নেই। বেশিরভাগ নারী-শিশু শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ ওই শিবিরের ছলিমা বেগম জানান, ‘শিশুদের কান্নাকাটি আর হইচইয়ের জন্য এই ঝুপড়ি ঘরে কার ঘুম হয় না। রাতে ঝুপড়ির বাঁশের বেড়া দিয়ে যখন ঠান্ডা বাতাস ঢোকে তখন শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে। একটা কম্বল কিংবা গরম কাপড় দিয়ে শিশুদের শীত নিবারণের ব্যবস্থা নিই।’ টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতলব বলেন, ‘এখন ভাগ্যে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র জোটেনি। তাই প্রতিদিন বিকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডায় কাতরাচ্ছে অসহায় মানুষগুলো।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘শীতকালে পাহাড় ও জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া নারী-শিশুরা ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তারা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি-জ্বর, কাশি ও চোখের অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সবাই যেন চিকিৎসাসেবা পায় সে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ টেকনাফ ইউএনও মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিবিরে ঠান্ডাজনিত রোগ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তবে এখানে শীতবস্ত্র আসলে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করা হবে।’ ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ইতোমধ্যে উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে ভারত থেকে আসা শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব রোহিঙ্গা যেন শীতবস্ত্র পায় সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

Related Post