নেইমার

বিশ্বকাপে তাঁর নাটুকেপনা আর গড়াগড়ি নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। রীতিমতো সামাজিক (মাধ্যমের) আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু তখন এসব নিয়ে কিছুই বলেননি। বিশ্বকাপের পর এবার শুধু এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। কিন্তু তা করেছেন একটি বিজ্ঞাপনে। সেই বিজ্ঞাপনে নিজে ক্ষমা চেয়েছেন, কেন এমন করেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কখনো কখনো যে অন্যায় ফাউলের শিকার হন, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন। নিজেকে বদলে ফেলে নতুন করে হাজির হওয়ার প্রতিজ্ঞা জানানোর মূল সুর দিয়ে বানানো সেই বিজ্ঞাপনের জন্য নেইমার ২ লাখ পাউন্ড আয় করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা সোয়া ২ কোটি টাকা।
৯০ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে কম আবেগময় কথা বলেননি নেইমার। ‘হাঁটুতে বুটের আঘাত। মেরুদণ্ডে লাথি। পা মাড়ানো।’ এই তিন সংক্ষিপ্ত বাক্য দিয়ে শুরু হওয়া বিজ্ঞাপনের পুরোটাই নেইমারের ভাষ্য দিয়ে বানানো হয়েছে। যেখানে নেইমার আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেছেন, ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি অনেক সময় নিজে থেকে ডাইভ দেন, ‘আপনারা হয়তো ভাবেন আমি অতি অভিনয় করি এবং মাঝেমধ্যে আমি সেটা করি। কিন্তু সত্যি হলো মাঠে আমাকে অনেক ভুগতে হয়। বাইরে থেকে আপনারা ধারণাও করতে পারবেন না কীসের মধ্য দিয়ে যাই আমি। আমি যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে বিদায় নিই, এর মানে এই যে আমি শুধু জিততে ভালোবাসি বরং এ কারণে যে আমি এখনো হতাশ করতে শিখিনি।’
সামাজিক মাধ্যমে কোনো তারকাকে নিয়ে চলা ট্রলকে উল্টো ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন বানানো এখন নতুন কৌশল। যাকে যে বিষয় নিয়ে পচানো হয়, সেটির ওপর ভিত্তি করেই এখন বিজ্ঞাপন বানানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে চলা ট্রেন্ড বা প্রবণতাকে ব্যবহার করা হয় বলে তা অনেক সময় দারুণ কাজেও আসে। সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা সেটি শেয়ার করেন, মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো এ নিয়ে খবর করে; মুফতে বিজ্ঞাপনের আরও প্রচার হয়।
কিন্তু অনেক সময় এটি পাল্টা সমালোচনারও জন্ম দেয়। নেইমারের ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে। কারণ এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল আর নেইমারকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল ছিটকে পড়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল নিয়েও। এ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা আছে। আর সেই হতাশাজনিত ক্ষোভের কেন্দ্রে আছেন নেইমার। এমনকি এবারের বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও নেইমারের জায়গা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে নেইমার সংবাদমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেননি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার ১৫ দিন পরেও চুপ ছিলেন। পরে বক্তব্য যখন দিলেন, সেটি সাজানো চিত্রনাট্যে, অভিনয় করে। এ নিয়েই চলছে সমালোচনা। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এখানে নেইমারের কণ্ঠস্বরে আসল দরদ নেই। যেন কৃত্রিম এক অভিনেতার কণ্ঠস্বর!
এই বিজ্ঞাপন যে হিতে বিপরীত হতে পারে, এমনটা আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন মার্কেটিং গুরুরা। অনেকে বলেছেন, নেইমারের এ নিয়ে বিজ্ঞাপন না করে বরং সংবাদমাধ্যমে এসে খোলাখুলি কথা বলা উচিত ছিল। এই বিজ্ঞাপন করার বিনিময়ে নেইমার বিশাল অঙ্কের পারিশ্রমিক পেয়েছেন এটা ফাঁস করে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম আরও যেন ফুঁসছে!

Related Post