১৭ বছর বয়সেই- তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্লোবালস ইনকরপোরেশনের সহ–প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুহভারতের এই তরুণের বাড়ি বেঙ্গালুরুতোস গোপীনাথ। ‘দ্য লিমকা বুক অব রেকর্ডস’ সুহাসকে বলছে পৃথিবীর সর্বকনিষ্ঠ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। স্কুল শেষে বন্ধুরা যখন খেলার মাঠে সময় কাটাতেন, সুহাস যেতেন একটি ইন্টারনেট ক্যাফেতে। সে সময় মাত্র ইন্টারনেট ক্যাফে খোলা শুরু হয়েছে। ক্যাফের মালিক দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার সময় দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যেতেন ছোট্ট সুহাসের কাঁধে। এভাবেই সুহাস ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। আর দশটা মা-বাবার মতো সুহাসের মা-ও অবশ্য ভাবতেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করে করে ছেলেটা বখে যাচ্ছে না তো! না, ছেলে বখে যায়নি। বরং নিজে নিজেই শিখেছে ওয়েবসাইট তৈরির কাজ। ১৯৯৮ সালে সুহাসের বয়স যখন ১৩ বছর, তখন তিনি তাঁর প্রথম ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। সুহাস বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করব, যেখানে ভারতীয়রা নানা রকম অনুষ্ঠান, বিভিন্ন খাবার জায়গার টিপস এবং তাঁদের আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।’

তবে পরবর্তী সময়ে ওয়েবসাইটটি হ্যাক হয়ে যায়। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রতিভা সন্ধানীরা সুহাসের খবর পেয়ে তাঁকে ডেকে পাঠান। সেটাই ছিল সুহাসের প্রথম বিমান–যাত্রা। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজের প্রস্তাব দেয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে আমার পড়াশোনার খরচ দেবে বলেও জানিয়েছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি। যা আমি নিজেই নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য করতে সক্ষম, তা আমি অন্যের জন্য করতে যাব কেন!’
১৪ বছর বয়সে তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ সহজ ছিল। মা-বাবা রাজি ছিলেন না। আরও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারতের আইন। কারণ, সেখানকার আইন মোতাবেক ১৮ বছর বয়সের আগে কেউ নিজের প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারবে না। তবে এসব বাধা সুহাসকে আটকে রাখতে পারেনি। তিনি তিন বন্ধুকে নিয়ে অনলাইনে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন করিয়ে কাজ শুরু করেন। প্রতিষ্ঠান শুরু করার পরও নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সুহাসের বয়স মাত্র ১৪ বছর জেনে অনেক ক্রেতাই চুক্তি বাতিল করে দিতেন! তবে এসব বাধাও তিনি অতিক্রম করেছেন। বেশ কয়েকজন কর্মী নিয়োগ দিয়ে খুলে বসেন নিজের অফিস। তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও বয়সে ছোট। তাঁদের গড় বয়স একুশ বছর। সবচেয়ে কম বয়সী কর্মীর বয়স ১২, আর সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মীর বয়স ২৬ বছর! ২০০০ সালে, ১৭ বছর বয়সে নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন এই তরুণ। সুহাসের প্রতিষ্ঠান গ্লোবালস ইনকরপোরেশনের অফিস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর এবং মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে ভারতের প্রায় ২০০ এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০ জন কর্মী নিযুক্ত আছেন। ২০০৭ সালে তিনি ‘দ্য ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ভ্যালুজ’–এর পক্ষ থেকে ‘ইয়ং অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। ২০০৮-০৯ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি ‘ইয়ং গ্লোবাল লিডারস’দের মধ্যে একজন ছিলেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ইতিহাসে সুহাস সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। কেন ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত: শিগগির বাংলাদেশ সফরে আসছেন মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং লি। তিনি মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডও সফর করবেন। জেনেভা থেকে পাওয়া বার্তা অনুসারে, মিয়ানমারের প্রতিবেশী দুই দেশে লি’র ১১ দিনব্যাপী সফর শুরু হবে আগামী ১৪ জানুয়ারি, যা শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি।

প্রথমে থাইল্যান্ড দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইয়াং লি’র ১৯ জানুয়ারি ঢাকা পৌঁছার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে আসার পর এখানকার শরণার্থী শিবিরগুলোতেও যাবেন তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ এ দূতের সফর পরিকল্পনায় নোয়াখালীর ভাসানচরেও যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দ্বীপটিতে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার। এদিকে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ লি’কে অসহযোগিতার ব্যাপারে নিজেদের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে মিয়ানমার। অর্থাৎ মিয়ানমারে প্রবেশ করতে পারবেন না জাতিসংঘের এ দূত। তবে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন লি। ভারতের একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরকীয়ার বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস ভারতের একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার বাবার ব্যক্তিগত সহকারী এম.ও. মাথাইয়ের সঙ্গে ১২ বছর অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত ছিলেন এবং একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার কারণে ইন্দিরার সঙ্গে মাথাই তার যৌন জীবনের সমাপ্তি টানেন। অবাক করার মতো হলেও ইন্দিরার যৌন জীবন সম্পর্কে এমন সব চাঞ্চল্যকর দাবিই করা হয়েছে মাথাইয়ের আত্মজীবনী ‘রেমিনিসেন্স অব দ্য নেহরু এজ’ বইয়ে। জওহর লাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে নিজের যৌন জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মাথাই লিখেন, নিজের স্বামী ফিরোজ গান্ধীকে খুব একটা পছন্দ করতেন না ইন্দিরা। প্রায় ১২ বছরের বেশি সময় ইন্দিরার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল মাথাইয়ের। অবাধ এই যৌন সম্পর্কের ফলে একবার ইন্দিরা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ইন্দিরার গর্ভপাত ঘটানো হয়।
কীভাবে এই সম্পর্কের সূচনা হয় তার বর্ণনায় মাথাই লিখেন, ‘একদিন ইন্দিরা আমাকে বলে, আমি তোমার সঙ্গে যৌন মিলন করতে চাই, আগামীকাল সন্ধ্যায় আমাকে শহর থেকে দূরে নিয়ে যাও।’

এর উত্তরে মাথাই ইন্ধিরাকে বলেন, ‘কোনো নারীর সঙ্গে যৌন মিলনের অভিজ্ঞতা নেই আমার।’ মাথাইয়ের এমন কথার পর তাকে দুটি বই দেন ইন্দিরা, যার একটি ছিল যৌনতা ও নারীর শরীর নিয়ে ডা. আব্রাহাম স্টোনের একটি বই।
তিনি আরও লিখেন, ‘ইন্দিরা সবসময় আমাকে খুব শক্ত করে ধরে জাপটে ধরত এবং বলত, ওহ, ভূপাত আমি তোমায় ভালোবাসি। আমাকে ভূপাত নামটি ইন্দিরাই দিয়েছিলেন।’
মাথাই লিখেন, ‘ইন্দিরার সঙ্গে মিলনের পূর্বে যৌনমিলনের অভিজ্ঞতা ছিল না আমার।’

১২ বছর পর মাথাই কেন ইন্দিরার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করলেন, এমন প্রশ্নেরও জবাব রয়েছে বইয়ে। এ বিষয়ে মাথাই লিখেছেন, ‘ইন্দিরার শুধু একজন পুরুষের সঙ্গেই যৌন সম্পর্ক ছিল না। একদিন আমি ইন্দিরার সঙ্গে দেখা করতে যাই এবং তাকে ধীরেন্দ্র ব্রাক্ষচারীরর সঙ্গে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই।’ ‘আমি ইন্দিরাকে বলি তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। তবে সে কথা এখনই বলছি না, পরে বলছি,’ লিখেছেন মাথাই। এ ঘটনার পর মাথাই ইন্দিরার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ইতি টানেন। ধীরেন্দ্র ব্রক্ষাচারী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর ইয়োগা প্রশিক্ষক। মাথাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হলে ইন্দিরার নিয়মিত শয্যা সঙ্গী হন ধীরেন্দ্র, বইয়ে লিখেছেন মাথাই। প্রসঙ্গত, ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত জওহর লাল নেহেরুর ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন এম.ও. মাথাই। নিজের আত্মজীবনীতে ‘শি’ শিরোনামের একটি অধ্যায়ে ইন্দিরা সম্পর্কে এমন তথ্য দিয়েছেন তিনি। বই থেকে এই অধ্যায়টি শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হলেও ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে এর কপি।

Related Post