হুইল চেয়ারে গিয়ে- হুইল চেয়ারে করে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে গিয়ে ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোট দিলেন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। নিজের অনাগত সন্তানের কথা চিন্তা না করে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবেই ভোট দিতে হাজির হন তিনি। মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের ৪৩২ আইনপ্রণেতা। আর পক্ষে ভোট পড়ে ২০২টি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন। ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের এমপি টিউলিপ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার তারিখ দুই দিন পিছিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী টিউলিপ বলেন, ‘একদিন পর আমার ছেলে পৃথিবীতে এলেও যদি এ বিশ্বে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার ভালো সুযোগ আসে, তবে তাই হোক।’ টিউলিপের দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। কন্যার জন্ম দেয়ার সময় তার গর্ভকালীন জটিলতা দেখা দিয়েছিল। দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানের জন্য আগামী ৪ ফেব্রুয়ারিতে তার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ডায়াবেটিসসহ এবারও কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় হ্যাম্পস্টেডের রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের তারিখ এগিয়ে সোমবার বা মঙ্গলবার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরে টিউলিপ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তারিখ দুই দিন পিছিয়ে বৃহস্পতিবার করার অনুরোধ জানান। চিকিৎসকরা সন্তান জন্মদানে তাকে এটি করতে নিষেধ করেছিলেন জানিয়ে টিউলিপ বলেন, ‘রয়্যাল ফ্রি হাসপাতাল তাদের নিয়মকানুন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। আমার গর্ভাবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আমি চিকিৎসকদের পরামর্শের বিপরীতে গিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, আমি আমার বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে যদি কোনো জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তবে অবশ্যই আমি সবার আগে আমার সন্তানের সুস্থতার কথা ভাববো’ যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সাধারণত কোনো এমপির সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় আসন্ন হলে বা সদ্যজাত সন্তানের কারণে বা অসুস্থতার কারণে কোনো ভোটে অংশ নিতে না পারলে বিরোধী পক্ষেরও একজন সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকেন, যাকে ‘পেয়ার’বলা হয়। কারও অনুপস্থিতি যেন ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে না পারে, তাই এই প্রথা।

####আমিরাতে জ্বলন্ত ভবনের ভিতর থেকে শিশুকে বাঁচালেন প্রবাসী বাংলাদেশী:
বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ লোক বিদেশে পাড়ি জমায় ।আরব আমিরাতে অসংখ্য বাংলাদেশি প্রবাসির দেখা মিলে । সেখানে বাংলাদেশিরা নানা ধরনের কাজ করে থাকেন।বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষের কাছেই বাংলাদেশ সুপরিচিত কারো কারো জন্য দেশের মানসম্মান নষ্ট হয় আবার কারো কারো কর্মের জন্য বাংলাদেশীর গৌরব মানসম্মান আকাশ ছোয়া হয় যায়। এমনি এক অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী ৫৭ বছর বয়সের ফারুক ইসলাম নুরুলহক।আরব আমিরাতের পত্রিকার শিরোনামে বাংলাদেশি এই ব্যাক্তির ছবি এবং সম্মানের সাথে তার নাম স্পষ্ট করে দিলেন। শত লোকেদের ভিড়ের মধ্যে থেকে একমাত্র তিনিই দৌড়িয়ে গিয়ে জ্বলন্ত বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার জানালা থেকে ফেলে দেওয়া ৩ বছরের শিশুটিকে সাহস করে ধরলেন এবং সফল ভাবে কোন প্রকার আঘাত ছাড়াই বাঁচাতে সক্ষম হলেন। ছেলেটির জীবন রক্ষা করার জন্য মঙ্গলবার আরব আমিরাতের জাতীয় দৈনিক আজমান সিভিল ডিফেন্স কর্তৃক বাংলাদেশী এই ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। তিনি বলেন, আমি দূর থেকে দেখছি জ্বলন্ত বিল্ডিংয়ের ধুয়ার মধ্যে থেকে এক মহিলা তার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য জানালা দিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। সেখানে বিশাল মানুষের ভিড় ছিল কিন্তু কেউ তাকে উদ্ধার করার চিন্তা করলো না। কিন্তু আমি আর থাকতে পারলাম না এগিয়ে গেলাম এবং দ্বিতীয়তলায় থাকা ওই মহিলার দিকে তাকালাম মহিলাও আমার দিকে তাকাল তার পর বাচ্চাটিকে আমার হাতে ছেড়ে দিল। বাচ্চাটির মা তাকিয়ে দেখলো বাচ্চাটিকে নিরাপদে রক্ষা পেল।ফারুক মিয়া খালিজ টাইমসকে আরো জানান, তিনি এক বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি একটি মুদি দোকানে কাজ করে। শনিবার রাতে নুয়াইমিয়ায় তিন তলার এই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি ভীষণভাবে আগুন লেগে কালো ধোঁয়ায় ভরে যায় । জানালা ছাড়া বের হওয়ার আর কোন উপায় ছিল না। মহিলার স্বামী মোহাম্মাদ সাকিব বলেন, ঘটনাটি যখন ঘটেছিল তার স্ত্রী রুবেনা বলল যে সে দরজা দিয়ে যেতে পারে না এবংআগুন ও ভারী ধোঁয়া থেকে বেঁচে থাকবে নিজেকে এবং সন্তানের বাঁচানোর উপায় সম্পর্কে চিন্তা করে জানালা দিয়ে বাচ্চাকে বাঁচিয়ে নিজেরা একটি পার্কিং গাড়ির উপরে লাফিয়ে পরে। তার স্ত্রী গুরতর আহত অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউ তে আছে।অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে বারান্দায় অবস্থিত মেশিনে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটগুলিতে আগুন দেখা দেয়, যার ফলে পুরু ভবনটিতে ধোঁয়া দ্রুত বিস্তার ঘটে।

সৌদি তরুণীর জন্য নিয়োগ করা হলো নিরাপত্তারক্ষী: বাড়ি থেকে পালানো সৌদি তরুণী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনুনের জন্য নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের পাওয়ার ক্ষেত্রে রাহাফের জন্য কর্মরত কস্টি নামের প্রতিষ্ঠান ওই নিরাপত্তারক্ষী ভাড়া করেছে। জানুয়ারি ১৮ বছর বয়সী সৌদি তরুণী রাহাফের বাড়িপালানোর ঘটনা আলোড়ন তোলে আন্তর্জাতিক মহলে। রাহাফের পরিবারের অনেক সদস্য কুয়েতে থাকেন। রাহাফ বাড়ি থেকে পালিয়ে কুয়েত থেকে থাইল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছিলেন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে তাঁকে কুয়েতে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় থাই কর্তৃপক্ষ। তবে যে হোটেলে তাঁকে রাখা হয়, সেখানের কক্ষে নিজেকে তালাবদ্ধ রাখেন রাহাফ। একের পর এক টুইটে জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন। পরিবারের কাছে ফেরত পাঠালে তাঁকে মেরে ফেলা হবে।

পরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার অনুরোধে কানাডা রাহাফকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেয়। গত শনিবার তিনি কানাডায় পৌঁছান।গতকাল রাহাফ টরোন্টোতে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সাবা আব্বাস নামের একজন বিবৃতিটি ইংরেজিতে পড়ে শোনান। লিখিত বিবৃতিতে রাহাফ বলেন, ‘আমি জানি, বিশ্বের প্রতিটি মানুষ আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাঁরা জানতে চান—আমি এখন কী করছি। আমি এখানে কানাডার অন্য সব তরুণীর মতো স্বাভাবিক স্বাধীন জীবন শুরু করেছি।’ কানাডায় পৌঁছাতে পারার জন্য রাহাফ কানাডীয় সরকার ও থাই সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাগ্যবানদের একজন। আমি জানি, অনেক অভাগা নারী পালানোর চেষ্টা করার জন্য হারিয়ে গেছেন অথবা নিজেদের বাস্তবতা পরিবর্তনের জন্য কিছুই করতে পারেননি।’

রাহাফকে এমন এক সময় কানাডা আশ্রয় দিয়েছে, যখন দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা বিরাজ করছে। গত বছর সৌদি আরব কয়েকজন নারী অধিকারকর্মীকে কারাবন্দী করলে কানাডা তাঁদের মুক্তির দাবি করেছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সৌদি আরব কানাডার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে এবং কানাডা থেকে তাদের অনেক শিক্ষার্থীকে সৌদি আরবে ফিরে যেতে বাধ্য করে। তাই শনিবার বিমানবন্দরে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের নিজে গিয়ে রাহাফকে স্বাগত জানানোর ঘটনা সৌদি আরবকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি সেটাই করেছেন, যা নিজের মেয়ের জন্য করতেন।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •