একই জেলার ২১ প্রবাসী- পরিবারের সদস্যদের একটু সুখে রাখতে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানে সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ও স্ট্রোক করে ২০১৮ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ২১ জন মারা গেছেন। নিহতদের আত্মীয়স্বজন, বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিহত প্রবাসীরা হলেন- আলকরা ইউনিয়নের সোনাইছা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার রেলওয়ে কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিমের পুত্র সৌদি প্রবাসী আহসান উল্যাহ ভূঁইয়া ১লা ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জেদ্দায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ২৩শে ফেব্রুয়ারি নিহত জার্মানের মিনডেন সিটি এলাকায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে রবিউল হকের লাশ (৩৩)। তিনি কনকাপৈত ইউনিয়নের আতাকরা পূর্বপাড়ার মজুমদার বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মাহবুবুল হকের পুত্র। ৩১শে মার্চ শনিবার বিকেলে সৌদিআরবে আল জাবের হোল্ডিংস কোম্পানীর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার কোরবত আহমেদ (৪৫) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি শ্রীপুর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মরহুম মুন্সি আরবের রহমানের পুত্র।

১৮ই এপ্রিল বুধবার ভোরে সৌদি আরবের হাইল জেলার হোলাইফা শহর এলাকায় অগ্নিকান্ডে ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মরহুম আবদুল হকের পুত্র এমরানুল হক সোহেল (৩৪), ইমামুল হক মুন্না (২২), জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের খলিলুর রহমান ভুঁইয়ার পুত্র আনিছুর রহমান ভুঁইয়া বাবুল (৪৬) ও গুণবতী ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. সোহেল (৩০)। ২৯শে মে মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন ইমান হোসেন (২৪) নামের এক যুবক। তিনি কনকাপৈত ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মরহুম মো. এছাকের পুত্র। ৬ই জুন বুধবার রাত ৯টায় সৌদি আরবের আল কাছিম আল বাদাইয়ান এলাকার একটি মসজিদে ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষে সাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে পিছন দিক থেকে একটি গাড়ির ধাক্কায় মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যুগিরহাট গ্রামের মরহুম আবদুর রহমানের পুত্র হুমায়ন কবির (৪৬) নিহত হন। তিনি সৌদি আরবের আল কাছিম হেলথ ওয়াটারে কর্মরত ছিলেন। ১৬ই জুন শনিবার গভীর রাতে সৌদিআরবের রিয়াদের চোলাই এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনে পুড়ে দুই প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামের মরহুম আবদুল মালেক ভেন্ডারের পুত্র কামরুল ইসলাম (৩৮) ও চিওড়া ইউনিয়নের নেতড়া গ্রামের ওয়াদুদ মিয়ার পুত্র এয়াছিন ওরফে ফকির (৩৪)। ১৭ই জুন রোববার রাতে আলকরা ইউনিয়নের ওমান প্রবাসী মহিম উদ্দিন হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ভাজনকরা গ্রামের মোস্তফা মিয়ার পুত্র। ২৬শে জুন মঙ্গলবার রাত ৮টায় সৌদিআরবের দাম্মামের আল-হাছা এলাকায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আবদুল মতিন ইন্তেকাল করেন। তিনি আলকরা ইউনিয়নের দামারপাড়া গ্রামের মরহুম নুরুল হকের পুত্র। ১২ই জুলাই বৃহস্পতিবার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের রবিউল আলম ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ওই গ্রামের আতর ইসলামের পুত্র। ৯ই আগস্ট বৃহস্পতিবার চিওড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চিওড়া কাজী বাড়ির কাজী আবদুল করিম পিন্টু (৪৮) ইতালির ফিজা শহরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের চাচাতো ভাতিজা। ১৭ই সেপ্টেম্বর সৌদিআরবের জিজান এলাকায় এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছে শহিদুর রহমান। তিনি ঘোলপাশা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের আতাউর রহমানের পুত্র। ২৭শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে কাতারে গলায় ফাঁসি লাগিয়ে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের মিতল্লা গ্রামের মহিন উদ্দিন নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। তিনি ওই গ্রামের আমির হোসেনের পুত্র। ৫ই অক্টোবর শুক্রবার ভোরে জীবিকার উদ্দেশ্যে দুই বছর আগে ওমান গিয়েছিলেন মো. নয়ন (২২)। তিনি মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফেলনা গ্রামের শাহজালাল মজুমদারের প্রথম পুত্র। ওমানের সালতানাতের সালালায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের জেদ্দায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আবদুল হাই বাবুল (৫৬) নামে এক প্রবাসী মারা গেছেন। ১লা নভেম্বর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। বাবুল জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে। ৬ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দিদার মোল্লা (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি মুন্সিরহাট ইউনিয়নের দেড়কোটা গ্রামের মোল্লা বাড়ির মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে। ১৫ই ডিসেম্বর শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টায় ইমারতের আজমানে কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন চৌদ্দগ্রামের লিয়াকত আলী মুন্সি (৫৫)। তিনি মুন্সিরহাট ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ির মরহুম মমতাজ উদ্দিন তহশিলদারের ছেলে। তিনি আজমানে একটি চকোলেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন দেশে স্বজনরা মারা গেলে অনেক ক্ষেত্রে লাশ আনতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। সরকারের উচিত-নিহতদের লাশ সহজে আনা ও অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতায় এগিয়ে আসা। আমেরিকায় মোহাম্মদ আলীর নামে বিমান বন্দর:::: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অবস্থিত দ্য লুইসভিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নাম বদলে ‘লুইসভিল মোহাম্মদ আলী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ করা হচ্ছে। সূত্র ইলমফিড.কম।বিবিসি কর্তৃক শতাব্দীর সেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনোনীত ক্রীড়াবিদ, মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলীর প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য তার নামানুসারে এয়াপোর্টের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী সেন্টারের ভেরিফায়েড টুইটার পেইজ থেকে এই সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা লুইসভিলে। যে কারণে এই শহরের এয়ারপোর্টের নামের সঙ্গে তার নামটি দারুণ মানানসই। ক্রীড়াক্ষেত্রে ও নিজের জন্মস্থানে মোহাম্মদ আলীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ওই শহরের মেয়র গ্রেগ ফিশার।ইসলাম ধর্মালম্বী মোহাম্মদ আলী নিজ ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে গর্বের সঙ্গে কথা বলতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘এখন আমি যেটাই করি না কেন, আল্লাহতায়ালাকে খুশিকে করার জন্য করি।’ ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলাতে মোহাম্মদ আলী জন্মগ্রহণ করেন।১৯৭৫ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি আমেরিকান মুসলিমদের আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। বিদ্যুতের মতো গতি, অবিশ্বাস্য ফুটওয়ার্ক এবং অকল্পনীয় শারীরিক নমনীয়তায় কিংবদন্তি এই বক্সার মোট ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৫৬টিতেই জিতেছেন। ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৩৭টি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে নকআউট করে জিতেছেন। ক্রীড়া জীবনের শুরুর দিকেই কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী রিংয়ের ভেতরে ও বাইরে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

মোহাম্মদ আলী ১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। পল্টনের বক্সিং স্টেডিয়ামের নাম তার নামে রাখা হয়।১৯৮০ সালে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হন। ৩২ বছর এ রোগে ভোগার পর ২০১৬ সালের ৩ জুন ৭৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি। হারিয়ে যেতে যেতে আবার ফিরে আসা, বাধা সরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ, বুকভরা সাহস, প্রবল আত্মসম্মানবোধ আর মানুষকে ভালোবাসা- এসব কিছুর মিশেলে একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। তার প্রতি লুইসভিল শহর কর্তৃপক্ষের এমন সম্মান সত্যিই প্রশংসনীয়।

Related Post