নীচু জাত বলে প্রতিবেশীরা কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে মায়ের সৎকার করতে কিশোর ছেলে সাইকেলে করে মায়ের মরদেহ বাড়ি থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরের জঙ্গলে নিয়ে একাই সৎকার করল। এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের সুন্দরগড় এলাকায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

জানা গেছে, মা জানকি সিংহানিয়ার সঙ্গে থাকতেন একমাত্র ছেলে ১৫ বছর বয়সী সরোজ। মাত্র সাত বছর বয়সে বাবাকে হারান সরোজ। এরপর মা জানকিই পুরো সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ছেলেকে একাই মানুষ করছিলেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে কুয়ায় পানি তুলতে গিয়ে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান জানকি। ঘটনাস্থলেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তার। মায়ের মৃত্যুতে প্রথমে দিশেহারা হয়ে যান সরোজ। কিন্তু মৃতদেহ তো আর ফেলে রাখা যাবে না। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সৎকার করতে হবে। তাই প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পেতেছিলেন সরোজ। কিন্তু ‘ছোট জাত’ বলে কেউ তাকে সাহায্য করেনি। একজন প্রতিবেশীও সরোজের দুঃসময়ে এগিয়ে আসেনি।

তখন সাইকেলের পেছনে দুই পাশে লম্বালম্বি দুটো বাঁশ বেঁধে মাচা তৈরি করেন তিনি। মাকে সেখানে শুইয়ে দেন। এরপর চোখের জল মুছে সাইকেলে ঠেলতে শুরু করেন। রোদের মধ্যে এভাবে সাইকেল ঠেলে প্রায় চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরের জঙ্গলে আসেন তিনি। এরপর সেখানকার শ্মশানে মাকে সৎকার করেন সরোজ।

ওই ঘটনা ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাইকেলে করে মায়ের মরদেহ বয়ে নেয়ার ছবিটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •