পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কৃষক এত কম টাকা পেয়েছেন যে, সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারলেন না। বাজারের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন তিনি। এ ঘটনায় সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে শোকগ্রস্ত ওই কৃষক পরিবার। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে।মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কমল নাথ। কিন্তু কৃষকদের ক্ষতে সেটা যে সামান্য প্রলেপ মাত্র, তা ফের সামনে চলে এল।মধ্যপ্রদেশে এ বছর রেকর্ড ফলন হয়েছে পেঁয়াজের। তার সুফল ঘরে তুলেছিলেন মন্দসৌরের কৃষক বেহরুলাল মালব্যও। তবে পেঁয়াজের দাম যে পড়ে গিয়েছে সে তথ্য শুনেছিলেন তিনি। তবুও সদ্য ওঠা ২ হাজার ৭০০ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে স্থানীয় মন্দসৌর মান্ডি বাজারে গিয়েছিলেন বেহরুলাল। ধার-দেনা করে চাষ করেছিলেন তিনি।

বাজারে গিয়ে জানতে পারেন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম মাত্র তিন টাকা ৭২ পয়সা। অর্থাৎ ১০০ কেজির দাম ৩৭২ টাকা। সেই হিসেবে ২৭শ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে পান মাত্র ১০ হাজার ৪৪০ টাকা।পাওনা টাকার পরিমাণ শুনেই বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় চল্লিশ বছর বয়সী বেহরুলালের। বাজারের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বেহরুলালের সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে রবি।

রবি বলেন, ‘বিক্রির টাকা পাওয়ার কথা শুনেই বাবা লুটিয়ে পড়েন। সরকার আমাদের কিছু সাহায্য করুক। না হলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’ বেহরুলালের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, পেঁয়াজের দাম পড়ে যাওয়ার পর মনমরা হয়ে থাকতেন তিনি।মধ্যপ্রদেশের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ এবং আদার চাষ হয় মালওয়া এলাকায়। ব্যাপক ফলনের জেরে এ বছর ১০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০০ টাকা। এছাড়া ১০০ কেজি আদার দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা। ফলে ব্যাপক ফলন হওয়ার পরও মাথায় হাত অধিকাংশ কৃষকের। আনন্দবাজার।

Related Post