রিক্সার প্যাডেল ঘুরিয়ে- আমাদের মৌলিক অধিকারের একটি হল শিক্ষা। রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব তার নাগরিককে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। অথচ আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়ভার প্রচুর। এখানে একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের পেছনে খরচ করতে হয় কাড়িকাড়ি টাকা। এমনই এক রাষ্ট্রে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া সন্তানএকাডেমিক পড়াশুনার দৌড়ে কতটুকুই বা আগাতে পারে। কিন্তু না, সন্তানদের জন্য দারিদ্রের শিকল ভেঙে ফেলেছেন এক পিতা।

সন্তানদের শিক্ষার জন্য, তাদের ভাগ্য বদলের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছেন তিনি। রিক্সার প্যাডেল ঘুরিয়ে সন্তানদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন খুলনার আব্দুল খালেক শেখ (৮১)। নিজে রিক্সা চালিয়ে তাঁর সন্তানদের বানিয়েছেন বিসিএস ক্যাডার ও ডাক্তার। আব্দুল খালেক শেখ, গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের কাঁঠাল গ্রামে। তবে স্বাধীনতার পর থেকে তিনি থাকেন খুলনায়। খুলনা শিপইয়ার্ডে বেশ কয়েক বছর চাকরি করেছেন। এখনও থাকেন সেই এলাকায়। তিন ছেলের বাবা তিনি। স্ত্রী ফাতেমা এক সময় খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। সংসারের এমন অবস্থা যে, বলতে গেলে খাওয়াটাই ঠিক মত চলে না। সেখানে সন্তাদের পড়াশুনাতো পরের কথা। তবে ভেঙে পড়েননি আব্দুল খালেক। তিনি জানতেন, সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে ফিরে আসবে সুদিন। সেই আশাতেই ঘুড়িয়ে চলেছেন রিক্সার প্যাডেল। একে একে তিন ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। বড় ছেলে টুটুল শেখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ৩৪তম বিসিএস দিয়ে গাইবান্ধা জেলায় কিছুদিন আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। মেজ ছেলে ইব্রাহিম শেখ খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে একই বিষয়ে পড়াশোনা করে ৩৬তম বিসিএস পাস করে ঢাকায় আছেন। আর ছোট ছেলে সোহরাব শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্ন করছেন। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে প্র্যাকটিসও করছেন। আব্দুল খালেক বলেন, “নিজে শিক্ষিত হতে না পারলেও ছেলেদের পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করিনি। সংসার চালাতে কষ্ট হলেও ছেলেদের শিক্ষিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। তবে আমার একার চেষ্টায় নয় ছেলেদের প্রবল আগ্রহ আর মেধার কারণে তারা শিক্ষিত হতে পেরেছে।” ছেলেদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার একার আয়ে অনেক সময় পারতাম না। তাই ওরা প্রাইভেট পড়িয়ে নিজেদের পড়ার খরচ যুগিয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনায় স্ত্রী আমাকে সহযোগিতা করেছে।” গর্বিত পিতা আব্দুল খালেককে তার জীবনের স্বার্থকতা কি জানতে চাইলে বলেন, “আমি মরে গেলে সবাই বলবে ওদের তো মানুষের মতো মানুষ করেছি। আশা করছি ছেলেদের যেখানে পৌঁছে দিতে পেরেছি তাতে তাদের কাজের কারণে কেউ আমাকে গালি দিতে পারবে না।”ছেলেরা রিকশা চালাতে নিষেধ করে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছেলেরা রিকশা চালানো ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে। ওরা পুরোদমে বেতন পেলে ছেড়ে দিবো।” র‌্যাবের ফোন নম্বরে কল দিয়ে ফেঁসে গেলেন তমিজ উদ্দিন: ছেলে হত্যা মামলার আসামি। তাই বাদীর পরিবারকে ফাঁসাতে বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অস্ত্র ও গুলি রেখে র‌্যাবকে খবর দিয়েছিলেন তমিজ উদ্দিন। কিন্তু প্রতিপক্ষ নয়, নিজেই গেলেন ফেঁসে। র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লেন তিনি। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পূর্বভাকুম এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ১০টি ককটেল, চারটি পেট্রলবোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব-৪-এর উপ-অধিনায়ক মেজর আব্দুল হাকিম বলেন, সোমবার রাতে নাম-পরিচয় গোপন রেখে র‌্যাবকে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভাকুম গ্রামে বোমা, অস্ত্র ও গুলি মজুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত হিসেবে মনছুর আলী, আনছার আলী ও জালালের নাম বলা হয়। খবর পেয়ে রাতেই ভাকুম গ্রামে অভিযান চালানো হয়। পরে আনছার আলীর বাড়ির পাশে খড়ের পালার নিচ থেকে ১০টি ককটেল, চারটি পেট্রলবোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের উপ-অধিনায়ক মেজর আব্দুল হাকিম আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে র‌্যাব জানতে পারে ফোনে তথ্যদাতার বাড়িও ঘটনাস্থলের আশপাশেই। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তমিজ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। একপর্যায়ে তমিজ উদ্দিন স্বীকার করেন প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিনি এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ রেখেছিলেন। পরে তাকে আটক করে র‌্যাব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আনছার আলীর ছেলে কলেজছাত্র রাসেল খুন হন। এই হত্যা মামলায় র‌্যাবের হাতে আটক তমিজ উদ্দিনের ছেলে রকিবসহ চারজনকে আসামি করা হয়। এই ঘটনার জের ধরে বাদীর পরিবারকে ফাঁসাতে এমন ঘটনা সাজানো হয় বলে জানান র‌্যাব-৪-এর উপ-অধিনায়ক মেজর আব্দুল হাকিম।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •