ঢাকা- তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ বার্ষিক জমায়েত আসছে ফেব্রুয়ারি মাসে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার দুপুরে তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুই পক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মন্ত্রী আরও জানান, সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছেন। এবং ইজতেমায় ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সাদ অংশ নেবেন না।

মাওলানা সাদের পক্ষে-বিপক্ষে তাবলীগের দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। ইসলাম ধর্মীয় বিষয়ে তার বিতর্কিত সব ফতোয়ার প্রেক্ষিতে কয়েক বছর ধরে তাকে নিয়ে সংগঠনটিতে অস্থিরতা চলছিলো। টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে এ নিয়ে গত ডিসেম্বরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঠিক করা হবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রতি বছরের মতো এবারও ইজতেমাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ইজতেমার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, দিল্লির মাওলানা সাদ এবার আর ইজতেমায় যোগ দিতে আসছেন না। বৈঠকে সেরকম সিদ্ধান্তই হয়েছে।
বৈঠকে বিতর্কীত মাওলানা সাদ আহমাদ কান্ধলভী ও আলেমদের পক্ষের তাবলিগ জামাত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষে নেতৃত্ব দেন ওয়াসিকুল ইসলাম ও মাওলানা জোবায়ের হাসান। উভয় পক্ষেই ১৬ থেকে ১৭ জন করে সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের প্রধান বেনজির আহমেদ, আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এগুলো তাবলিগের জন্য কলঙ্ক। এর থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। দুই পক্ষ এক হয়েছেন। এখন আবার যথারীতি ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।’

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় দুই পক্ষের ‘মুরুব্বিদের’ কোলাকুলি ও কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
বিরোধ মীমাংসায় সমন্বয়কারীর ভূমিকায় থাকা কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে, একবারেই ইজতেমা হবে। তাদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল, তা মিটমাট হযে গেছে। এখন আর বিরোধ নেই।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার পর তাবলিগ জামাতের দুইপক্ষ আলাদাভাবে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করে। নিজামুদ্দীন মার্কাজপন্থী বিতর্কীত মাওলানা সাদের অনূসারীরা ১১, ১২, ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর বিরোধিতা করে জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করে আলেমদের অনুসারীরা নিয়ে সারা বছরই উত্তেজনা থাকে। গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়।

Related Post