টানা ১০ বছর মন্ত্রী থাকার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান। তবে এবার মন্ত্রিত্ব পাননি তিনি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শাজাহান খান বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার প্রতি জনমানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

নতুন মন্ত্রীসভায় নিজের জায়গা না হলেও বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন তিনি। এ সম্পর্কে শাজাহান খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একজন দক্ষ ও পরিপক্ব রাজনীতিবিদ। চারবারের মতো সরকার পরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা জানেন, কাকে দিয়ে কী কাজ করা যাবে। স্বর্ণকার যেমন সোনা চেনেন, তেমনি শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের চেনেন। সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ আনতে পারবেন না। দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রীরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি নতুনদের জায়গা দিয়ে বিশেষ চমক দেখিয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রেও দ্বিতীয় সারির সৈনিক রাখা হয় নিরাপত্তার জন্য। রাজনীতিতেও ঠিক তাই। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ বিশাল একটি রাজনৈতিক দল। এই দলের বহু নেতাকর্মী আছেন, যারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে পারেন। দেশ-জাতির প্রতি দায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দলের নেতারা তৎপর। শাজাহান খান বলেন, সরকার পরিচালনা করতে গিয়েও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার্থে আন্দোলন করতে হয়েছে। সময়ের দাবি হচ্ছে, সরকারবিরোধী শক্তিকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংঘবদ্ধ হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির এই ধারা সৃষ্টি করতে চাইছেন মন্ত্রীসভা থেকে অভিজ্ঞদের বাদ পড়া প্রসঙ্গে শাজাহান খান বলেন, আমার মনে হয় না নতুন মন্ত্রিসভা কোনো সংকটে পড়বে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি থাকে। স্থায়ী কমিটি একটি শক্তিশালী বডি। মন্ত্রীকে এই কমিটির পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি বাদ পড়া অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেন, তাহলে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। এতে মন্ত্রণালয়ের গতি আরও সঞ্চার হবে।

Related Post