বাবাকে হারানোর দুই দিন পর মাকেও হারালো দুই শিশু আব্দুল আজিম শিক্ষা ও জান্নাতুল মাওয়া বিদ্যা। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের লালপুরে। দুইদিন আগে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছিল তাদের বাবা গোপালপুর পৌর কাউন্সিলর জমিরুল ইসলাম।

১৩ বছর বয়সের আব্দুল আজিম বাবা মা হারানোর শেকে পাথর হয়ে গেছে যেন। সে এখন আর কারো সঙ্গে কথা বলছে না। আবার বুক ফাটা কান্নাও করছে না। তার তিন বছর বয়সের ছোট বোন জান্নাতুল মাওয়া তো বুঝতেই পারছে না আসলে তার কি ক্ষতি হয়েছে! সে কখনো ভাইয়ের মুখ, আবার কখনো দাদা-দাদী, চাচা-ফুফুদের আহাজারী দেখছে অবাক হয়ে। সোমবার (২১ জানুয়ারি) আড়াইটায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে বাবার জানাজা পড়িয়েছিলো শিশু আব্দুল আজিম নিজেই। দুই দিন পরে আবার বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) একই সময়ে একই স্থানে মায়ের জানাজাও পড়াতে হলো তাকে। বাবা-মা হারা আব্দুল আজিম তার বাবার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। দুর্বৃত্তদের হাতে স্বামীর খুনের শোক সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে কাউন্সিলর জামিরুল ইসলামের স্ত্রী আছিয়া খাতুনের। আছিয়া খাতুন গোপালপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর জামিরুলের স্ত্রী এবং বিরোপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।m জামিরুলের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, ‘জামিরুলের (আছিয়ার স্বামী) মৃত্যুর দিন থেকে আছিয়া একটানা আহাজারী করছিলেন। ২৩ জানুয়ারি রাত তিনটার দিকে তার ব্রেইন স্ট্রোক হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজশাহী সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় আজ (২৪ জানুয়ারি) ভোর ৪টায় তার মৃত্যু হয়। বিরোপাড়া গোরস্থানে স্বামীর পাশেই তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিরোপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে কাউন্সিলর জমিরুল ইসলামকে। তার হত্যার ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাজারঘাটে যেখানে সেখানে সবার মুখে একই কথা হাসি-খুশী এই মানুষটিকে কোন অপরাধে খুন হতে হলো! এরপর আবার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি আরও শোকাবহ করে তুলেছে এলাকাবাসীকে। জামিরুলের পিতা-মাতা বেঁচে আছেন। জামিরুলের ১ ছেলে, ১ মেয়ে। ছেলে আব্দুল আজিম শিক্ষা (১৩) স্থানীয় ফুলবাড়ি মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া বিদ্যার বয়স ৩ বছর। এ ব্যাপারে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘স্বামীর খুন হওয়ার পরে স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি মর্মান্তিক। এ নিয়ে এলাকায় যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

কাউন্সিলর জামিরুল হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ২০ জনকে আসামি করে লালপুর থানায় মামলা করেছেন। এদের মধ্যে গোপালপুর পৌর এলাকার মধুবাড়ী মহল্লার আব্দুল খালেক ড্রাইভারের ছেলে সোহাগ (৩৪), শিবপুর মহল্লার সবুর খাঁ এর ছেলে রিজভী (২০), একই মহল্লার কামরুল হোসেনের ছেলে রায়হান ইসলাম (২৮) এবং বৈদ্যনাথপুর মধ্যপাড়া মহল্লার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রবিউল ইসলাম রান্টুকে (৪০) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক।

Related Post