বৌভাত অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ- চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুটি পক্ষ। সংঘর্ষে চার পুলিশ ও উভয়পক্ষের ১৬ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ।

জানা গেছে, শনিবার ইউপি সদস্য বাবুল মিয়ার মামাতো ভাই আলীর বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুপুর দুইটার দিকে রাজ্জাক প্রধান গংদের সঙ্গে বাবুল মেম্বারের লোকজনের তর্কাতর্কি হয়। এর জেরে রাজ্জাক প্রধানের নেতৃত্বে কাইল্লা, নুরু, কালু, বাবলু গংরা লাঠি, শাবল নিয়ে বারেক বেপারী, আহাম্মদ হোসেন, জালাল বেপারী, দুলাল বেপারী, শহিদ, মোহাম্মদ হোসেন, আক্তার হোসেনের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে বাবুল মেম্বারের লোকজন পাল্টা আক্রমণ করে। জানতে পেরে মতলব উত্তর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই গোলাম মোস্তফা, এসআই জসিম-১, এসআই জসিম-২ এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে। একপর্যায়ে রাজ্জাক প্রধানের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও ৮০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে এসআই জসিম-১, এএসআই আফজাল, কনস্টেবল জহিরসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত হন জাহাঙ্গীর বেপারী, দুলাল বেপারী, শুক্কুর আলী, আক্তার হোসেন, আনোয়ার, মফিজুল ইসলাম’সহ ১৬ জন। আহতদের ছেংগারচর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা দুপুরে নামাজে ছিলাম। এমতাবস্থায় রাজ্জাক প্রধানের নেতৃত্বে তার লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১০/১২টি বসতঘর, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ লুটপাটসহ নারী-পুরুষের উপর হামলা করে। এ ব্যাপারে উত্তর থানায় মামলা হয়েছে।’ বিষয়টি সম্পর্কে রাজ্জাক প্রধানের ভাষ্য জানতে মুঠোফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিকাল পাঁচটায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) রাজন কুমার দাস, মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় যুবতীকে হাত ভেঙ্গে দিল বখাটে টুটুল: ঝিনাইদহ শহরের শিকারপুর গ্রামে রেখা (২২) নামে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে মসিউর রহমান টুটুল নামে এক বখাটে। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রেখার নিজ বাড়িতে তার উপর হামলা চালায় শিকারপুর গ্রামের মতলেব মুন্সির ছেলে টুটুল। হামলায় রেখার বাম হাত ভেঙ্গে গেছে এবং মাথায় লাঠির আঘাতে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই রবি শংকর আহত রেখার বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। রেখার পিতা আব্দুল ওহাব জানান, তার মেয়ে স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তার বাড়িতে থেকে শহরের আরাপপুর এলাকার একটি বিস্কুট ফ্যাক্টিরিতে কাজ করতো। কয়েক বছর ধরে শিকারপুর গ্রামের মসিউর রহমান টুটুল তার মেয়েকে খারাপ প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তিনি বলেন আমার মেয়ে টুটুলের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উপর এসে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতে তার মেয়ের মাথায় ৪টি সেলাই দিতে হয় এবং বাম হাতটি ভেঙ্গে যায়। সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আমিন মোস্তফা জানান, রেখার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার একটি হাত ভেঙ্গে গেছে। মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই রবি শংকর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রেখাকে বেদম মারপিট করা হয়েছে বলে জানান। এবং তার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। হাতের একটি চিকন হাড় ভেঙ্গে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন তার পিতাকে বলে এসেছি সদর থানায় একটি অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বখাটে টুটুল ইতিপূর্বে এমন আরোও ঘটনা ঘটিয়েছে। সকল বিচারের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •