আমাকে ফোন দেবেন – সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা দিতে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। সোমবার সকালে পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা পুলিশের বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের দেয়া এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এখন বিভিন্নভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করছে। সাধারণ মানুষ আমাদের সার্ভিস পাচ্ছে কি-না সেটা জানা উচিত। সেই হিসেবে এই পুলিশ সপ্তাহ। আমরা এখন পুলিশ ফোর্স না, পুলিশ সার্ভিস। তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে এই শহীদ মিনারে আমরা বলেছিলাম, আমরা জনগণকে সেবা দিতে চাই। সেজন্য হকারদের রাস্তা থেকে তুলে দিয়েছি আমরা। হকার ভাইদের ধন্যবাদ জানাই, তারা আমাদের কথা রেখেছেন। রাস্তার মধ্যে দোকানদারি, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে লোক তোলা এবং অবৈধ স্ট্যান্ড এসব চলবে না। এর বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান থাকবে। এসপি হারুন বলেন, সমস্যায় পড়লেই নির্ভয়ে থানায় আসবেন। থানায় যদি জিডি করতে গেলে যদি কোনো পুলিশ সদস্য হয়রানি করে কিংবা টাকা চায় তাহলে সেখান থেকে আমাকে ফোন করবেন, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন। ওই পুলিশ সদস্য থানায় থাকবে না। থানায় গেলে মামলা কিংবা জিডি করতে কোনো হয়রানির শিকার আপনারা হবেন না। আমি সারাদিন অফিসে থাকি। আমার কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি আপনাদের অভিযোগ থাকে তাহলে আমার অফিসে এসে জানাবেন। এছাড়া ৯৯৯ রয়েছে, সেখানেও আপনারা অভিযোগ জানাতে পারেন। কোনো মাদক বিক্রেতার স্থান নারায়ণগঞ্জে থাকবে না উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, ভূমি দস্যুদের ছাড় দেয়া হবে না। আমাদের অ্যাকশন অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মানুষের কোনো কষ্ট যাতে না হয়, সেজন্য আমরা জনগণের কষ্টের উৎসগুলো খুঁজে বের করে লাঘব করব। আমরা মানুষের কষ্ট যদি কিছুটা লাঘব করতে পারি তাহলেই আমাদের স্বার্থকতা। তিনি আরও বলেন, চাষাঢ়া মোড় থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত শত শত রাস্তা কাটা রয়েছে। সবাই মনের মতো রাস্তা কেটে ইউটার্ন করা শুরু করেছেন। অথচ এই রাস্তায় মাত্র দুই থেকে তিনটা কাটা থাকার কথা। এই কাটাও যানজটের অন্যতম কারণ। আমরা এই কাটা বন্ধ করব। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. নূরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

### ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসক, সরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু: লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মো. বাবুল হোসেন (৪০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি কার্ডিওলোজি সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু ঘটনার সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক (কনসালটেন্ট কার্ডিওলোজি) ভবাণী প্রসাদ রায় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তার ব্যক্তিগত চেম্বার দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় ছিলেন। তার অনুপস্থিতির কারণেই রোগী মারা গেছেন বলে স্বজনদের অভিযোগ।
সোমবার দুপুরে সদর হাসপাতালে বাবুল হোসেনের মৃত্যু হয়। এ সময় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগী ও আত্মীয় স্বজনরা ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেন।

নিহত বাবুল হোসেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড সাহাপুর এলাকার কালামিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, ভবানী প্রসাদ তার ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। সেখান থেকে ফোন পেলে (অনকল) রোগী দেখার জন্য সদর হাসপাতাল থেকে চলে যান।

নিহতের স্বজনরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাহাপুর এলাকার মো. বাবুল হোসেন বুকে ব্যথা অনুভব করলে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক (মেডিসিন) সালাহ উদ্দিনকে দেখালে রোগীর কার্ডিওলোজির সমস্যা ধরা পড়ে। পরে রোগীকে তিনি ভবাণী প্রসাদ রায়ের কাছে প্রেরণ করেন। কিন্তু হাসপাতালে ভবাণী প্রসাদ উপস্থিত ছিলেন না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে অন্য কেউ তার মোবাইলটি রিসিভ করে জানান, ভবাণী প্রসাদ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। পরে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন মোস্তফা খালেদ আহমেদকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই চিকিৎসক হাসপাতাল আসেন। কিন্তু এর আগেই রোগী মারা যান। চিকিৎসা অবহেলায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। রোগীর মৃত্যুতে স্বজনরা হাসপাতাল এলাকা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন। এদিকে খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ভবাণী প্রসাদের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার ব্যক্তিগত চেম্বারে গেলে তার দেখা মেলে। এ সময় তিনি অন্য রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। তবে ক্যামেরার সামনে তিন কোনো কথা বলেননি। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) জয়নাল আবেদিন বলেন, রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু নোয়াখালী নেয়ার আগেই তিনি মারা যান। লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন মোস্তফা খালেদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। ঘটনার সময় দায়িত্বরত চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •