চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আকাশের ফেসবুক স্ট্যাটাসে থাকা তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্ত্রী মিতুকে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের নন্দনকানন এলাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীর অভিযোগের কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন, আর কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৬ সালে আকাশ ও মিতুর বিয়ে হয়। পরে মিতু যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে গত ১৩ জানুয়ারি মিতু বাংলাদেশে আসার পর ঝগড়া-বিবাদ আরও বেড়ে যায়। আত্মহত্যার আগে বুধবার দিবাগত রাতে আকাশের সঙ্গে তার স্ত্রী মিতুর কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাত চারটার দিকে মিতু তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে আকাশ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের একাধিক অভিযোগ এনে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দেন।’ তবে পরবর্তীতে ওই ফেসবুক পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। এ কাজে কে জড়িত সেটা এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আকাশের মোবাইল ও মিতুর মোবাইল উদ্ধার করেছি। পুলিশের বিশেষজ্ঞরা মোবাইলগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। ডিলেট করা হলে এসব রিকভার করা সম্ভব। তদন্তে সব স্পষ্ট হবে। ডা. আকাশের আত্মহত্যায় তার স্ত্রী মিতুর কোনো বন্ধু বা স্বজন যদি প্ররোচনা দিয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে তাদেরও আটক করা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ) দেবদূত মজুমদার, চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার, পরিদর্শক (তদন্ত) জোবাইর সৈয়দ প্রমুখ। মোস্তফা মোরশেদ আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সঙ্গে এফসিপিএস পড়ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় নিজবাসায় নিজের শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন আকাশ। এর আগে ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাসে তিনি তার মৃত্যুর জন্য স্ত্রী মিতুকে দায়ী করেন এবং বিস্তারিত ঘটনার আবেকঘন বর্ণনা দেন।
যেখানে তিনি স্ত্রী মিতুকে ‘চিটার’হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সবশেষ লেখেন ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।’

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •