ঢাকার পূর্বাচলে একটি নতুন স্টেডিয়াম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যার নাম হবে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। শনিবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, তিন বছরের মধ্যে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ শেষ করতে চান তারা।

বাংলাদেশের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনার মালিক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা এনএসসি। নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বাচল স্টেডিয়ামের মালিকানাও এনএসসি’র অধিকারে থাকার কথা। তবে বিসিবি কোনোভাবেই এনএসসি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করতে চায়নি এ বিষয়ে। তাই স্টেডিয়ামটি নির্মাণে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তিন বছরের মধ্যে পূর্বাচলে ৩৭.৪৯ একর জমির ওপর স্টেডিয়াম তৈরি করছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ড (বিসিবি) । স্টেডিয়ামের ডিজাইনার এবং পরমর্শক নিয়োগে অতিসত্বর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

নির্বাচিত ডিজাইনার এবং পরার্শক স্টেডিয়ামের জন্য প্রস্তুতকৃত কনসেপ্ট ডিজাইনের ভিত্তিতে কাজ শুরু করবেন। এ জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হবে। যে কমিটিতে থাকবে বিসিবি এবং বিসিবির বাইরের পরামর্শকরা। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কার্যনির্বাহী সভা শেষে একথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আমরা আগামী তিন বছরের মধ্যেই এটা সম্পূর্ণ করার জন্য লক্ষ্য নিয়েছি। সে জন্য আমাদের খুব তাড়াতাড়ি করতে হচ্ছে। দেরি করা যাবে না। আমরা ৩৭.৪৯ একর জমি পেয়েছি। সে জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। ওনার সহযোগিতা ছাড়া এ জায়গা পাওয়া আমাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না। শুধু তাই না আমরা ঠিক করেছি, এটার জন্য এখনই এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট চাইবো আন্তর্জাতিকভাবে। সকলেই যেন অংশগ্রহণ করতে পারে। এটা মূলত ডিজাইন এবং কনসালটেন্সির জন্য। এখানে দুটি ভাগ থাকবে, ডিজাইন ও কনসালটেন্সি। আমাদের যে কনসেপ্ট ডিজাইন আছে তার ওপরে ভিত্তি করে আমরা প্রকৌশলী ও পরামর্শক নিয়োগ দেবো। যাদেরটা পছন্দ হবে, তাদের আমরা নির্বাচন করবো। শুধু তাই না এই বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আলাপ করেছি। আমাদের বোর্ডের বাইরে থেকেও কিছু বিশেষজ্ঞ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করবো। স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ বিসিবির খরচে তৈরি হচ্ছে বলে জানান পাপন। তিনি বলেন, এটা পুরোটা করবে বিসিবি।

আমাদের ইচ্ছা আমরা নিজ খরচেই করবো। স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা হবে ন্যূনতম ৫০ হাজার। সুবিশাল চত্বরে থাকবে ক্রিকেট একাডেমি, ইনডোর, জিমনেশিয়াম, প্লেয়িং ফিল্ড থেকে শুরু করে ক্রিকেটের জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু। থাকবে ৫ তারকা হোটেলও।বেশ বড় একটা স্টেডিয়াম। শুধু তাই না স্টেডিয়ামের সাথে আমরা একাডেমি, প্লেয়িং ফিল্ড থেকে শুরু করে যা যা আনুষাঙ্গিক; সুইমিং পুল, জিমেনশিয়াম, ইনডোর সবকিছুর ব্যবস্থা করতে চেয়েছি।

এখন পরামর্শকের কাছ থেকে ডিজাইন পেলে বুঝতে পারবো যে আসলে কতটুকু সম্ভব। সাথে সাথে একটা ৫ তারকা মানের হোটেলও ওই জায়গাটায় আমরা চাচ্ছি। ইতোমধ্যেই জায়গা আমাদের নামে বদল হয়ে গেছে, মিউটেশন হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশে এটা আমাদের ১০ লাখ টাকায় হস্তান্তর হয়েছে।
Source: bangladeshtoday