সুদ পারভেজ, ওরফে সোহেল রানা। দেশীয় চলচ্চিত্রের ড্যাশিং হিরো বলা হয় যাকে। ১৯৭৩ সালে সোহেল রানা নাম ধারণ করে কাজী আনোয়ার হোসেন এর বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র মাসুদ রানা গল্প অবলম্বনে মাসুদ রানা ছবির নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারী) বিডি২৪লাইভকে একান্ত সাক্ষাতকারে সোহেল রানা দেশের চলচ্চিত্র এবং তারকাদের রাজনীতিতে আসা নিয়ে নানান কথা বলেছেন। তার মুঠোফোনে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগ।

বিডি২৪লাইভ: কেমন আছেন? বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে আপনার?
সোহেল রানা: আল্লাহ পাক অনেক ভালো রেখেছেন। আমার ব্যস্ততা আমার পরিবার নিয়ে। যেহেতু এখন চলচ্চিত্রে আমি খুব বেশি সক্রিয় না। বিডি২৪লাইভ: দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা এবং সিনেমা তৈরি না হওয়ার কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?
সোহেল রানা: এটা নিয়ে বলতে গেলে কথা তো শেষ হবে না। এখন আর বাংলা চলচ্চিত্র বেঁচে নেই, মরে গেছে। মা যদি সন্তানকে হত্যা করে, তাহলে সে সন্তান বাঁচবে কি করে? বাংলা চলচ্চিত্রকে হত্যা করা হয়েছে। সিনেমা তৈরি না হওয়ার ওই একটাই কারণ। এখন সিনেমা হবে কি করে? কে বানাবে? এখন সব নিজ নিজ পকেটের ধান্দায় ঘুরে। সিনেমার স্বার্থে একজনও কাজ করে না। বিডি২৪লাইভ: সিনেমার সেই সোনালী দিন সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন? সোহেল রানা: সেই দিনের কথা মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে। কত আনন্দ আর হৈ-চৈ করে কাজ করতাম আমরা। সবাই সবার প্রতি আন্তরিকতায় কমতি ছিল না।

বিডি২৪লাইভ: বর্তমানে আমরা দেখছি যে রাজনীতি অঙ্গনে তারকাদের ভীড়। কেন? এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন? সোহেল রানা: সহজ করে করে যদি বলতে হয় তাহলে বলবো, এরা সুযোগ সন্ধানী সবাই। কেউ রাজনীতি বুঝে না। আমি শুধু মাত্র আমাদের ফারুখ ভাইকে দেখছি রাজনীতির লোক হিসাবে। আর এক জনও রাজনীতিতে আসার যোগ্য না। এরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর হাতে পায়ে ধরে সুযোগ নিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর চিন্তা। সবার চিন্তা ভাবনা একটা গাড়ি, কিছু টাকা, একটা ফ্ল্যাট করতে পারলেই হবে। এটাকে রাজনীতি বলে না। চলচ্চিত্রের মানুষ রাজনীতি করতে পারে না।

বিডি২৪লাইভ: আমরা দেখেছি আপনিসহ আপনাদের সময় রাজনীতিতে বেশ কয়েকজন সক্রিয় ছিলেন। সে ক্ষেত্রে কি বলবেন?
সোহেল রানা: আগে বুঝতে হবে রাজনীতি কি? রাজনীতি হচ্ছে দেশের জন্য কাজ করা। এখন মনে করেন আমি জীবনেও জনগণের পাশে দাঁড়াইনি, তাহলে আমি কি করে এমপি হবার স্বপ্ন দেখবো? ঠিক এমনই বলবো যে, রাজনীতে হচ্ছে দেশ এবং জনগণের জন্য কাজ করা। এক সময় নায়িকা কবরী রাজনীতিতে এসেছেন কিন্তু তিনি বিগত সময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছেন। আমি দেখেছি যে শ্যুটিং এ বসেও রাজনীতির বই পড়তেন তিনি। তারপর যদি বলি কন্ঠশিল্পী মমতাজের কথা, মমতাজ তার বাবার সাথে পথে পথে জনগণের জন্য কাজ করেছেন। পরিশ্রম করেছে। এখন সবাই যদি ফারুখ, মততাজ আর কবরী হতে চাই কি করে হবে? সেটা তো হওয়া সম্ভব না।

বিডি২৪লাইভ: অপু বিশ্বাসের রাজনীতিতে আসা নিয়ে আপনি কি বলবেন?
সোহেল রানা: ‘অপু সে কোথায় রাজনীতি শিখেছে জানি না। আদৌ সে রাজনীতি বুঝে কিনা আমার জানা নেই। তাহলে কেন সে রাজনীতি আসতে চাচ্ছে? আমি সত্যি নির্বাক! আমার মনে হয় তাকে যদি পার্লামেন্ট বানানটা ইংরেজিতে লিখতে বলা হয় সে পারবে না। এদিক ওদিক তাকাবে! শুধু অপু না আরও অনেকে আছে যারা পারবে না। তাহলে পার্লামেন্টে বসে কি ইয়েস নো বলার জন্য আপনারা এমপি হবেন? হাস্যকর বিষয়। এটা অভিনয় নয়, এটা রাজনৈতিক জায়গা। নিজেকে যোগ্য করে রাজনীতিতে আসুন। বিষয়টি যেন প্রধানমন্ত্রী বিবেচনায় রাখেন।’

Related Post