যে ব্যক্তি জুমার রাতে নিম্নলিখিত নিয়মে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করবে, সে কবরের চাপ ও অন্যান্য যেকোনো আযাব থেকে…..

শুক্রবার রাতের নফল নামাজ ও ফজিলতশুক্রবার (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) রাত ও দিন সপ্তাহের রাত ও দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম বলে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা উজ্জ্বল দিনে ও উজ্জ্বল রাতে অর্থাৎ শুক্রবার দিনে ও রাতে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ শরীফ পাঠ করো।

এদিনের দরুদ শরীফ আমরা নিকট পাঠানো হয়। আর এতে করে আমলনামায় অধিক পুণ্য লেখা হয়। যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমার রাতে দু রাকাত নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা একবার, আয়াতুলকুরসী একবার ও সূরা ইযাযুলযিলা তিনবার পাঠ করে, সালাম অন্তে ১০০ বার এ দোয়া আল্লাহুম্মা ইন্নিআউবুবিকা মিন আযাবিল কবরে লা-ইলা-হা ইল্লা আন্তা পড়ে, তবে আল্লাহতায়ালা তার কবরের চাপ নিষ্পেষণ ও অন্যান্য আযাব ক্ষমা করে দেবেন। (দোজখের আযাব ও বেহেস্তের শান্তি)।

তার নসীবে অবশ্যই বেহেস্ত হবে এবং অগ্রপশ্চাতের সমস্ত গুণাহ মাফ হয়ে যাবে।যে ব্যক্তি শুক্রবার রাত মাগরেবের নামাজ জামাতের সাথে পড়লো, সে যেনো একটি মকবুল হজ্জ্ব ও একটি ওমরার সমান পুণ্য লাভ করলো।নবী করীম (সাঃ) আরো এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শুক্রবার রাতে এশার নামাজ জামাতে পড়ে দু� রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর আরো ১০ রাকাত নামাজ পড়ে, যার প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা, সূরা এখলাছ, ফালাক ও নাস একবার পড়ে, তারপর ৩ রাকাত বেতেরের নামাজ পড়ে ডান পাশে কেবলামুখী হয়ে নিদ্রা যায়, সে শবেক্বদরের রাত জেগে থেকে এবাদত করার ছাওয়াব পাবে।আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরো এরশাদ করেছেন, পূর্ণিমার রাতে, জুমার রাতে ও দিনে আমার ওপর বহু পরিমাণ দরুদ শরীফ পাঠাও। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দু রাকাত নফল নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা একবার, আয়াতুল কূরসি ১১ বার এবং সূরা এখলাছ ১১ বার পড়ে নামাজান্তে নিম্নলিখিত দরুদ শরীফ ১০০ বার পড়ে পাক বিছানায় শোবে। তিন জুমা এরূপ আমল করলে ইনশাল্লাহ নবী করীম (সাঃ)-এর জিয়ারত নসীব হবে। দরুদ শরীফ, আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদানিন্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লিম। (কিমিয়ায়ে সাদাত)।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ২ রাকাত নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা একবার, সূরা এখলাছ ২ বার পাঠ করে নিম্নলিখিত দরুদ শরীফ ১০০০ বার পাঠ করে,পাক বিছানায় শুয়ে থাকলে ইনশাল্লাহ এ আমলের ফলে অতি শীঘ্র হুজুর পাক (সাঃ)-এর জেয়ারত লাভে ধন্য হবে।

দরুদ শরীফ এই : সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি)।শুক্রবার দিনের নফল নামাজ ও ফজিলতএদিন সূর্য যখন তীর পরিমাণ বা তদূর্ধ্ব ওঠে, তখন যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে অজু করে যে কোনো সূরা দ্বারা ১২ রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে দরজা হবে।হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, শুক্রবার সারাদিনই নফল এবাদত করা যায়। ওই দিন সূর্য উদয়ের পর উত্তমরূপে অজু করে যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে দু রাকাত যোহর নামাজ আদায় করবে, করুণাময় আল্লাহ তাআলা তাকে ২০০ পুণ্য দান করবেন আর ২০০ গুণাহ মাফ করে দেবেন। আর ৪ রাকাত নামাজ পড়লে জান্নাতে তার জন্য ৪শ দরজা বরাদ্দ করে দেবেন। ৮ রাকাত নামাজ পড়লে জান্নাতে তার জন্য ৮শ দরজা বরাদ্দ করে দেবেন এবং তার যাবতীয় পাপ মোচন করে দেবেন। আর ১২ রাকাত নামাজ আদায়কারীকে ২২০০ নেকী দান করবেন এবং ওই পরিমাণ গুনাহ মার্জনা করে দেবেন এবং ২২০০ দরজা বরাদ্দ করে দেবেন।হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন জামে মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের পর ৪ রাকাত নফল নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা ৫০ বার ও সূরা এখলাছ ৫০ বার পড়ে, জান্নাতে তার স্থান না দেখা পর্যন্ত তার মৃত্যু হবে না।অন্য হাদীস শরীফে আছে : যদি কোনো ব্যক্তি শুক্রবার দিন ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করার পর সূর্য উদয় নাহওয়া পর্যন্ত মসজিদে বসে জিকির আজকার করে, তবে তার জন্য আল্লাহতাআলা বেহেস্তে ৭০টি দরজা বরাদ্দ করে দেবেন। যার দু দরজার মধ্যবর্তী দূরত্ব এত প্রশস্ত হবে যে, একটি দ্রুতগামী ঘোড়া ৭০ বছর পর্যন্ত দৌড়াতে থাকলেও তা শেষ হবে না।অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করলো, সে যেনো হযরত ইসমাইল (রাঃ)-এর বংশজাত ৮জন গোলামকে আজাদ করলো।হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত আছে, যদি কোনো ব্যক্তি জুমার দিন যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে দু রাকাত নামাজের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা একবার, আয়াতুলকুরসী একবার, সুরা ফালাক ৫০ বার এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা একবার, সূরা এখলাছ একবার, সূরা ফালাক ২০ বার এবং নামাজান্তে ৫০ বার লা-হাওলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়ে এবং তা হলে সে মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভে ভাগ্যবান হবে এবং বেহেস্তে স্বীয় নিদর্শনে কৃতার্থ হবে।

হাদীসে শরীফে বর্ণিত আছে, এ দিন সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণের পরে এশরাক নামাজের বাদে ২ রাকাত নফল নামাজ সালাতুল এরাবী এর নিয়তে পাঠ করবে। সালাতুল এরাবী নামাজের তৎপর্য এই যে, একদিন নবী করীম (সাঃ) ছাহাবীগণের উপস্থিতিতে এরশাদ করলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে জুমার নামাজ ত্যাগ করলো, সে কাফেরের দরজায় পৌঁছে গেলো। সে মজলিশে একজন গ্রাম্য আরবি ছিল। সে দাঁড়িয়ে হুজুর পাক (সাঃ)-এর নিকট আরজ করলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা এমন জায়গায় বাস করি, যেখান থেকে প্রতি জুমায়মসজিদে হাজির হওয়া সম্ভব নয়, নবী করীম (সাঃ) ফরমালেন, যে কেউ তোমাদের মতো অবস্থায় শুক্রবার বাদে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে, যার প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার বাদে সূরা ফালাক একবার ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা বাদে সূরা নাস একবার করে পড়বে, তার জিম্মায় জুমার নামাজ থাকবে না এবং (এ অবস্থায়) সেজুমার নামাজ আদায়ের ছাওয়াবের অধিকারী হবে। তবে হ্যাঁ, যদি নিকটবর্তী কোনো মসজিদে জুমার নামাজে হাজির হওয়ার সুযোগ থাকে, তবে অবশ্যই হাজির হবে, নচেৎগুনাহগার হবে। নবী করীম (সাঃ)-এ নামাজটি উক্ত আরবিকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন বলে এ ২ রাকাত নামাজকে সালাতুল এরাবী বলে।অতঃপরদু রাকাত করে ৪ সালামে আরা ৮ রাকাত নামাজ সালাতিল উসবুয়িল আইয়্যাম এর নিয়তে পড়বে। এ নামাজ জুমার নামাজের পরে পড়বে। এর প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহার বাদে সূরা নসর (ইযাজাআ) একবার এবং সূরা এখলাছ ২৫ বার পাঠ করে নামাজান্তে সালাম ফিরিয়ে এ দোয়াটি ৭০ বার পড়বে- লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজীম ইনশাল্লাহ এ নামাজের বদৌলতে নামাজীর যাবতীয় নেক বাসনা আল্লাহতাআলাপূরণ করবেন। তদুপরি তার যাবতীয় গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন।

হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহঃ) নামাজের ফজিলত সম্বন্ধে বলেছেন, যে ব্যক্তি যথারীতি সালাতুল উসবুয়িল আইয়্যাম পাঠ করবে সে ইনশাল্লাহ স্বপ্নযোগে নবী পাক (সাঃ)-এর দর্শন লাভ করবে। সুতরাং প্রত্যেক নবীপ্রেমিক মোমেন-মোমেনাদের উচিত, এ নামাজ ভক্তি, শ্রদ্ধা, গভীর বিশ্বাস ও এহতেসামের সাথে আদায় করে আখেরাতের মুক্তির পথ নিশ্চিত করে যাওয়া।গাউছুল আজম হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) সালাতিল উসবুয়িল আইয়্যাম সম্বন্ধে বলেন, হুজুর পাক (সাঃ) মুহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানীকে (রহঃ) জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও ভক্তি সহকারে সালাতিল উসবুয়িল আইয়্যাম পাঠ করবে, তার বেহেস্তে প্রবেশের জিম্মাদার খোদ নবী করীম (সাঃ)। তিনি তাকে সুপারিশ করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন নিম্নলিখিত দরুদে পাক ১০০ বার পড়বে তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া নাবিয়্যিকা ওয়া রাসুলিকান্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি। (সেরাজুসসালেকীন, গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন)হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি শুক্রবার দিন আসরের নামাজ পড়ে দিক পরিবর্তন না করে কেবলামুখী বসে এ দরুদ শরীফ ৮০ বার পড়ে তার আমলনামায় ৮০ বছরের এবাদতের ছাওয়াব লেখা হবে।

(Visited 1,304 times, 5 visits today)

Related Post

You may also like...