পরিচিত একজনকে ফেবুকে খুঁজতে গিয়ে অন্য একটা আইডিতে ঘুরে আসলাম।
প্রথমে ভেবেছিলাম আমি যাকে খুঁজছি এটা তারই আইডি। হঠাৎ খেয়াল হলো নামের উপরে “remembering” লিখা।

তার মানে আমি এখন যার আইডি দেখছি তিনি এখন আর এই পৃথিবীতে নেই! কথাটা মাথায় আসতেই কেমন যেন গা টা ছমছম করে উঠলো। নিজের অজান্তেই তার প্রোফাইল ঘাটতে শুরু করলাম। এটা আমার খুব বাজে স্বভাব বলা যায়!! কারো ব্যপারে জানতে ইচ্ছে হলে তার প্রফাইলের আদ্দপান্ত ঘেটে ফেলি। এতে মানুষটা সম্পর্কে ভালোই ধারণা পাওয়া যায়। আর ডিজিটাল জামানায় এতে খুব সময়ও যায় না।
২০১০ থেকে শুরু করে ওনার মৃত্যু পর্যন্ত !!

মনটা খারাপ হয়ে গেলো!!
সব কথা গুলো যেন এখনো জীবন্ত!!
২০১৪ তে উনি কি গান শুনেছিলেন(গানের লিরিক পুরাপুরি শির্কে ভরা)।
২০১২ এর ঈদে।
২০১৩ এর শীতের সকালে ওনার মা কি কি রান্না করেছিলেন।
২০১৫ তে উনি কতটা হতাশ হয়েছিলেন।
২০১৭ এ উনি নিজের স্টুডেন্ট লাইফ কতটা মিস করছিলেন।
২০১৬ এ বন্ধুদের সাথে আড্ডা ও ফুটবল ম্যাচ।

সব কথা গুলো যেন এখনো জীবন্ত!! পড়ে মনে হচ্ছিলো এইতো এখনি উনি “১০ মিনিটের মধ্যে দুইটা গোল দিয়া দিছে। 😛 ” লিখে হাসছেন। এই মাত্রই মায়ের হাতের মজার খাবার গুলো খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন। সব ঘেটে ঘুটে নিস্তব্দ হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলাম। সব কথা গুলো এখনো জীবন্ত!! আমাদের দু কাঁধেও এভাবেই সব লিখে রাখা হচ্ছে। হাশরের মাঠে যখন আমাদের হাতে আমলনামা আসবে তখন বিষ্ময়ে আমরা বলে উঠবো, “এ কেমন বই এতে যে ছোট বড় কিছুই বাদ নেই।” ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কিছুই বাদ থাকবে না সেই বইয়ে।
ফেবুর সামান্য টেকনোলোজিই যদি ২০১০ এর সব কথা টাইম ডেট সহ রেকর্ডে রাখতে পারে তাহলে বিশ্বের স্রষ্টা কেন পারবেন না!! হয়তো কালই আমার অথবা আপনার নামের উপরও ফেবুতে এমন “remembering” লিখা দেখাবে।

আজ পর্যন্ত যা করেছি সব রেকর্ড আছে… এখন যা করছি, যা ভাবছি সব লিখা হচ্ছে… প্রতিটা নেনো সেকেন্ডও লিখা হচ্ছে…
এখন লিখা হচ্ছে আমি পোস্টটা লিখছি… এই পোস্টটা লিখার জন্য আমার নিয়্যাত কি… লিখা হচ্ছে আপনি পোস্টটা পড়ছেন…..
যে সময়গুলো আমরা হেলায় নষ্ট করি তার জন্য কি জবাব দিবো!!
আর যে গুনাহ গুলো লিখা হয়ে গেছে তার জন্য কবে ক্ষমা চাইবো!!! সময় যে আর বেশি বাকি নেই…

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •